সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন কেন্দ্রীয় নূরানী তালীমুল কুরআন মাদরাসার উস্তাদ আব্দুল জলিলের ইন্তেকাল

একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে খুন হয় রিফাত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: দেশের আলোচিত রিফাত হত্যাকান্ডের পেছনে একটি মোবাইল ফোনের ঘটনা সামনে এসেছে। একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা জেলা পুলিশের এক সদস্য গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই পুলিশ সদস্য জানান, গত ২৬ জুন বুধবার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়। ঘটনার দুইদিন আগে সোমবার হেলাল নামে এক ছেলের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় রিফাত শরীফ। হেলাল রিফাত শরীফের যেমন বন্ধু ঠিক নয়ন বন্ডেরও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই সেই মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের জন্য নয়ন বন্ডের শরণাপন্ন হয় হেলাল। পরে নয়ন মিন্নির দারস্থ হয়।

এক পর্যায়ে মিন্নিও ছলে বলে কৌশলে স্বামী রিফাত শরীফের কাছ থেকে ফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।কিন্তু ওই ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মারধরের শিকারও হয় মিন্নি। পরে হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবার নয়নের সঙ্গে দেখা করে মিন্নি নির্যাতনের সব ঘটনা নয়নকে জানায়। আর মোবাইল ফোনটি তার হাতে তুলে দেয়।

পরে ফেরার আগে মিন্নি তার উপর নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে রিফাতকে মারধর করতে নয়নকে অনুরোধ করে। তবে তাকে মারধরের সময় সে যাতে উপস্থিত না থাকে, সেটাও মিন্নি নয়নকে জানিয়ে দেয়।

এরপর ২৫ জুন সন্ধ্যায় বরগুনা কলেজ মাঠে মিটিং করে রিফাত শরীফকে মারধরের পুরো প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্ড বাহিনী।

ওই পুলিশ সদস্য আরও জানান, রিফাত শরীফের ওপর হামলার আগ মুহূর্তে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নি কলেজ থেকে বের হলেও কোনো প্রস্তুতি দেখতে না পেয়ে সময় ক্ষেপণের জন্য স্বামীকে নিয়ে সে আবারো কলেজে প্রবেশ করে।

এর কিছুক্ষণ পরই বন্ড বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য একত্রিত হয়ে রিফাত শরীফকে আটক করে মারধর করতে করতে কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা রিফাতকে মারধর করছিলেন বলে প্রথমে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন মিন্নি। কিন্তু পরবর্তীতে পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নয়ন বন্ড রিফাত শরীফকে মারধর শুরু করলে মিন্নি তখনই এগিয়ে আসে।

আর সেই এগিয়ে আসাটিও ছিল মূলত মিন্নি রিফাত শরীফকে বাঁচাতে নয়, তাকে মারধরের অভিযোগ থেকে নয়ন বন্ডকে বাঁচাতে! ওই সময় মিন্নি বারবার নয়ন বন্ডকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয় মিন্নি।

এদিকে, আলোচিত রিফাত মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেই সম্পৃক্ত বলে এরই মধ্যে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। আজ বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে এ তথ্য নিশ্চত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ