মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৯ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৪ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
‘কার্যকর বিচারব্যবস্থা অনুপস্থিত থাকায় দেশে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে’ নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আর কখনও রাতের ভোট হবে না: আলী রীয়াজ এবার খামেনির পক্ষে ইরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ! কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’

শ্রীলঙ্কায় আতঙ্কে মুসলিমরা, ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়েছে একটি মসজিদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ইস্টার সানডেতে সিরিজ বোমা হামলার পর থেকে আতঙ্ক ও শঙ্কায় দিন কাটছে শ্রীলঙ্কার মুসলিমদের।

পুলিশের তল্লাশি এবং স্থানীয়দের সন্দেহের দৃষ্টির কারণে একটি মসজিদ ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়েছে সেখানকার মুসলিমরা।

এমএইচএম আকবর খান বলেন, ইস্টার হামলার পর অমুসলিমরা আমাদের সবাইকে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী হামলার কথাই বলছিলেন তিনি যে ঘটনায় নিহত হয়েছে প্রায় আড়াইশ মানুষ। আর এ হামলার জন্য দায়ী করা হয় একটি জঙ্গি গোষ্ঠীকে।

এরপর পুরো রোজার মাস জুড়ে মুসলিমরা যখন রোজা পালন করছিল, তখন উগ্রবাদীদের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য মসজিদটি ভেঙে ফেলে তারা।

আকবর খান মাদাতুগামার প্রধান মসজিদের একজন ট্রাস্টি। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কেন এমনটি করলো সেখানকার মুসলিমরা।

তিনি বলেন, ইস্টার হামলার পর পুলিশ কয়েক দফা তল্লাশি করেছে মসজিদটিকে। এতে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। মুসলিমদের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়গুলোর অবিশ্বাসও বেড়ে যায়।

যে মসজিদটি ধ্বংস করা হয় সেটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত বা এনটিজে সদস্যরা বেশি যাতায়াত করতো বলে মনে করা হয়। পরে এনটিজে পরিচালিত ওই মসজিদটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

আকবর খান বলেন, ‘আমাদের শহরে অন্য যে মসজিদ আছে সেটি মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য যথেষ্ট। কয়েক বছর আগে অন্য একটি গোষ্ঠী প্রশ্নবিদ্ধ মসজিদটি নির্মাণ করে।’

পরে মে মাসে পুরনো মসজিদের সদস্যরা একটি সভায় মিলিত হয়ে সর্বসম্মত হয়ে বিতর্কিত মসজিদটি ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে স্থানীয়রা সেটি ধ্বংস করে। তিনি বলেন, ‘মিনার, নামাজ কক্ষ ধ্বংস করে ভবনটি পুরনো মালিকের হাতে দিয়ে দেয়া হয়েছে।’

শ্রীলঙ্কায় ৭০ ভাগ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আর মুসলিম দশ ভাগের মতো। তবে মসজিদ ধ্বংস করে ফেলার সিদ্ধান্ত সবাই ভালোভাবে নেয়নি। শ্রীলঙ্কায় মুসলিমদের সর্বোচ্চ তাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ অল সিলন জামিয়াতুল উলামা বলছে, প্রার্থনার জায়গার ক্ষতি করা উচিত নয়।

সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর। এর ধ্বংস বা ক্ষতি করা ইসলামি চেতনার পরিপন্থী।’

শ্রীলঙ্কা সরকার বলছে, দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৫৯৬টি রেজিস্টার্ড মসজিদ আছে। শ্রীলঙ্কার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড: আ রামিজ বলছেন, মসজিদ ধ্বংসের পন্থা বেছে নিলে এমন শত শত মসজিদ ধ্বংস করতে হবে।

বোমা হামলার ঘটনার পর মুখ ঢেকে রাখায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ওই হামলার পর দেশটিতে এখনো জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে, শেষ হবে আগামী ২২শে জুন।

কিন্তু দেশটির মুসলিমরা সবদিক থেকেই বেশ চাপের মধ্যে আছে। ওই ঘটনার পর বহু জায়গায় মুসলিমদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে। ড: রামিজ বলছেন, তিনি নিজেও হেনস্থার শিকার হয়েছেন।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ