বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ।। ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘একজন প্রবীণ আলেমের ওপর নৃশংস হামলার বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব’ কাউন্সিল সফল করতে মিরপুরে জমিয়তের মতবিনিময় সভা ইমাম কেন বেছে নিলেন আত্মহত্যার পথ? শায়খে চরমোনাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, দলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি ১ হাজার ওমরা যাত্রীর খরচ বহন করবেন সৌদি বাদশাহ এসএসসি-২০২৭ জানুয়ারিতে, ২০২৮ থেকে আসছে নতুন কারিকুলাম ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ, ইসরায়েলের ভয়ংকর পরিকল্পনা ফাঁস ক্বারী আবু রায়হানের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় খেলাফত মজলিস তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি নিচে, প্লাবনের শঙ্কা নেই বিকেএম ময়মনসিংহ জেলা শাখার নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

‘আল্লাহ আমাদের বাঁচাতে জেলেদের পাঠিয়েছিল’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: আহমেদ বিলালের চোখের সামনেই একে একে ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাচ্ছিল অনেক সহযাত্রী। নিজেও ঠান্ডা পানিতে ডুবে মারার উপক্রম। তারপর একদল জেলে এসে আহমদ বিলালসহ ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। নিজে বেঁচে গেলেও এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তার দুজন আত্মীয়।

আহমেদ বিলাল এখন তিউনিসিয়ার উপকূলীয় শহর জারজিসে রেড ক্রিসেন্টের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন। ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন পরিবারের সাথে।

তীরে আসার পর একটি বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের বাঁচাতে জেলেদের পাঠিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন কীভাবে বাংলাদেশের সিলেট থেকে ইউরোপের পথে শুরু হয়েছিল তার এই বিপদজনক যাত্রা।

৩০ বছর বয়সী আহমেদ বিলালের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলায়। সেখান থেকে উন্নত জীবনের আশায় তিনি ইউরোপের পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন দালালদের মাধ্যমে।

তিনি জানান, পারিবারিক জমি বিক্রি করে তিনি দালালের হাতে তুলে দেন সাত হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমান অর্থ। এ দালালকে তিনি চেনেন 'গুডলাক' ছদ্মনামে।

‘এই দালাল আমাকে বলেছিল, আমরা বেশ ভালো জীবনযাপন করতে পারবো। আমরা তাকে বিশ্বাস করেছিলাম।আমি নিশ্চিত যত লোককে সে এভাবে পাঠায়, তাদের বেশিরভাগই মারা যায়।’

ছয় মাস আগে তাদের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে তারা যান দুবাই। সঙ্গে ছিল আরও দুজন। সেখান থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। সেখান থেকে আরেকটি ফ্লাইটে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে।

বিলাল আরও জানান, ত্রিপলিতে আরও প্রায় ৮০ জন বাংলাদেশি তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর পশ্চিম লিবিয়ার কোন একটা জায়গায় একটি রুমে তাদের তিন মাস আটকে রাখা হয়।

‘আমার মনে হয়েছিল, আমি লিবিয়াতেই মারা যাব। আমাদের দিনে মাত্র একবার খাবার দেয়া হতো। অনেক সময় তারও কম। বিরাশি জন মানুষের জন্য টয়লেট ছিল একটি। আমরা শৌচকর্ম পর্যন্ত করতে পারতাম না। আমরা খাবারের জন্য কান্নাকাটি করতাম। গোসল করি নাই তিন মাস।’

বিলাল সাক্ষাতকারে বলেন, আমরা আশি জনের মতো ছিলাম, প্রতি পাঁচ মিনিটে যেন একজন করে লোক হারিয়ে যাচ্ছিল। সকালে দেখি আমরা মাত্র ১৪/১৫ জন লোক বেঁচে আছি। তখন হঠাৎ দেখি একটা মাছ ধরার ট্রলার। আমাদের মনে হলো আল্লাহ যেন আমাদের জন্য ফেরেশতা পাঠিয়েছে। আর যদি দশ মিনিট দেরি হতো আমরা সবাই মারা যেতাম।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইতালি যাওয়ার জন্য লিবিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলের জুয়ারা শহর থেকে প্রায় ৭৫ জন অভিবাসী নিয়ে রওনা দেয় বড় একটি নৌকা। তিউনিসিয়া উপকূলে ওই নৌকা থেকে অভিবাসীদের আরেকটি ছোট নৌকায় তোলার সময় সেটি ডুবে যায়।

জেলেদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তিউনিস নৌবাহিনী ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তার মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি। নৌকাটিতে সবমিলিয়ে ৫১ বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ