শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
হাজিদের সেবায় সুনাম কুড়াচ্ছে আল-মিনহাজ হজ ট্রাভেলস পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিন ১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ, কী হতে চলেছে ইসলামাবাদে? বায়তুল মোকাররম এলাকায় হকার-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে, কোনো অজুহাতে অফ রাখলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি রাজনীতিতে যারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে তাদের পরিণতি কিন্তু খুব ভালো হয়নি : নাহিদ ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে ঢাকায়  ৫ সপ্তাহ পর আল-আকসায় জুমা, মুসল্লিদের ঢল আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা যাদের, নমিনেশনে অগ্রাধিকার তাদের : রিজভী

স্বাগত ২০১৯; হিসাব নেই জীবনের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী
অতিথি লেখক

ইংরেজি ক্যালেন্ডার হিসেবে একটি বর্ষ শেষ হচ্ছে এবং আরেকটি বর্ষ শুরু হচ্ছে। গত বছরটি আমাদের জীবনে একবারই মাত্র এসেছিল। আর এই যে বিদায় নিল আর কখনোই সে ফিরে আসবে না। ক্যালেন্ডারে সংখ্যার এই যে আসা-যাওয়া প্রকৃতপক্ষে এ তো আমাদের জীবনের বাস্তব চিত্র।

ক্যালেন্ডার থেকে একটি সংখ্যার বিদায় আসলে কি সংখ্যার বিদায়? না, সংখ্যার বিদায় নয়, আমাদের জীবনকালের একটি অংশের বিদায়। আর এ কারণেই যে কোনো ক্যালেন্ডারে বর্ষশুরু ও বর্ষশেষ উৎসবের ব্যাপার নয়, চিন্তা-ভাবনা ও হিসাব-নিকাশের ব্যাপার।

কীসের হিসাব-নিকাশ? বিনিয়োগ ও লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ।

মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ পুঁজি আর তার বিনিয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে তার নিজের কর্ম। জীবনকাল ভালো কাজে ব্যয় হলে তা ফেরৎ আসবে মুনাফাসহ। আর মন্দ কাজে ব্যয় হলে তা বয়ে আনবে লোকশান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন-

‘যে কণা পরিমাণ ভালো কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে। আর যে কণা পরিমাণ মন্দ কাজ করবে তাও সে দেখতে পাবে।’ সূরা যিলযাল, আয়াত নং- ৭-৮

বছরের শেষ দিন এই বার্তা দিচ্ছে, তোমার জীবন থেকে একটি বছর ফুরিয়ে গেল। কাজেই ব্যয় হয়ে যাওয়া দিবস ও রজনী যদি ভালো কাজে ব্যয় হয়ে থাকে তাহলে আল্লাহর শুকরিয়া, যদি মন্দ কাজে ব্যয় হয়ে থাকে তাহলে ভবিষ্যতের জন্য সংশোধনের সংকল্প- এই তো উপায় মুক্তি ও উন্নতির।

দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছরের রূপে বস্তুত তার নিজের জীবনের আয়ুই নিঃশেষ হয়ে চলেছে। কাজেই আর অবহেলা নয়, এবার ব্রতী হতে হবে সৎকর্মে এবং ত্যাগ করতে হবে সকল বালখিল্যতা।

আর তাই মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ হয়েছে- ‘বুদ্ধিমান তো সে, যে নিজের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কর্ম করে। আর অক্ষম সে, যে প্রবৃত্তির অনুসারী হয় আর আল্লাহর প্রতি (অলীক) প্রত্যাশা পোষণ করে।’ জামে আত-তিরমিজি

প্রতিটি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত আমাদের জানাচ্ছে জীবনের ক্ষয় সম্পর্কে। সুতরাং উন্মাদনা নয়, অনুশোচনা ও আত্মসমালোচনাই হতে পারে বিগত বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর উত্তম পন্থা।

নতুন বছরকে নতুন চেতনায় অনুভব করতে এর কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুন। আমিন!

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ