আল্লামা মাহমূদুল হাসান
ইসলাম একটি সুস্পষ্ট জ্ঞানভিত্তিক মতাদর্শ। মানুষের জ্ঞানী ও শিক্ষিত হওয়া ইসলামের একটি মৌলিক দাবি। জ্ঞান অর্জন ছাড়া ইসলাম মানা বা বোঝা কোনওটাই সম্ভব নয়। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবজাতির শিক্ষক হয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন। আরবের মূর্খ ও অশিক্ষিত মানুষগুলোকে তিনি শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন।
মাত্র তেইশ বছরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জাতিটির কেয়ামত অবধি দীর্ঘ এক সফরের পথ নির্মাণ করেছেন। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সামাজিকতা, নৈতিকতা, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, বোধ-বিশ্বাস ও ইবাদতের যে কল্যাণমুখী ও বিস্তৃততর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা পুরো মানবজাতির জন্য একটি বিস্ময়!
একজন মুসলমানের মূর্খ থাকার কোনও সুযোগ নেই। ইসলামে মূর্খতা অনেক বড় গোনাহ। ফরজে আইন পরিমাণ শিক্ষা না থাকলে একজন মুসলমান অনেক বড় গোনাহগার হিসেবে কবরে যাবে। হাশরের মাঠে অপরাধী হিসেবে দ-ায়মান হবে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে।
সহিশুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে পারা, হালাল-হারাম জানা, নামায, রোজা, যাকাত, হজ্ব ও আকিদার মৌলিক মাসআলাগুলো জানা থাকা একজন মুসলমানের জন্য ফরজ। এই পরিমাণ শিক্ষা অর্জন করার মাধ্যমেই একজন মানুষ সাধরণ মুসলিম বলে বিবেচিত হবেন। নয়ত সে সাধরণ মুসলমানদের কাতার থেকেও ছিটকে পড়বে।
ইসলাম নিয়ে, ইসলামের কোনও বিধান নিয়ে সমালোচনা করতে শোনা যায় আজকাল। মূর্খ, জেনারেল শিক্ষিত; ইসলাম না জানা মানুষেরা এসব সমালোচনায় লিপ্ত হচ্ছে। আবার তারা কুরআন-হাদিস থেকে দলিলও দিচ্ছে তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে। এটা অনেক বড় একটি বোকামি। কারণ, যার ইসলামের মৌলিক জ্ঞানই নেই তার ইসলাম বোঝার কোনও সুযোগই নেই।
আর ইসলাম নিয়ে সমালোচনা করার তো প্রশ্নই আসে না। ইসলাম নিয়ে, ইসলামের বিধান নিয়ে, আকিদা ও বিশ্বাস নিয়ে সমালোচনা-পর্যালোচনা করার জন্য ইসলামের মধ্যেই নিজস্ব একটা পদ্ধতি আছে, উন্নততর জ্ঞানতাত্ত্বিক একটা প্রক্রিয়া আছে। ইসলামের গভীর জ্ঞান ছাড়া ইসলাম নিয়ে তাই সমালোচনা করাই বোকামি। অবশ্য যে কোনও মতাদর্শের ব্যাপারে সমালোচনা করতেই সে সম্পর্কে যথেষ্ঠ জ্ঞান থাকতে হয়। কিন্তু ইসলামের সমালোচনা পদ্ধতির মতো গঠনমূলক সমালোচনা পদ্ধতি অন্য কোনও মতাদর্শেই নেই।
কুরআন, হাদিস, ইজমা, কিয়াসের পাশাপাশি উসুলুল ফিকহ ও উসুলুল হাদিসের যে বিশাল জ্ঞানভা-ার তার সামনে