সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

‘বেঁচে থাকবো হালাল রুজি খেয়ে; হারাম ছুঁয়েও দেখবো না’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সুফিয়ান ফারাবী
আওযার ইসলাম

পুঁজিবাদি এ যুগে হালাল রুজি যেন সোনার হরিণ। শত চেষ্টা সত্ত্বেও হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকা কষ্টকর এবং প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে মনে যদি সাহস আর ভরসা থাকে আল্লাহর ওপর তাহলে অবশ্যই সম্ভব, এমনটাই করে দেখিয়েছেন সাভারের এক ব্যবসায়ী।

নামাজের সময় নামাজ পড়েন ব্যবসা বন্ধ রেখে। রমজান মাসে যেন শিশা ঢেলে প্রাচির গড়েন ব্যবসা ও নিজের মধ্যে থাকা সম্পর্কের মাঝে। বাকি এগারো মাসে যা উপার্জন করেন তা থেকে কিছু কিছু আলাদা করে রাখেন যাতে রমজানে ব্যবসায় থেকে বিরত থাকা যায়।

বলছিলাম এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার কথা। ধন-সম্পদে অঢেল তেমন কিছুই নেই। মানুষটি ব্যবসা করেন মাত্র চার থেকে পাঁচঘন্টা। সকালে কোনো স্কুল বা মাদরাসার মাঠে দু’ঘন্টা মুড়ি বিক্রি করে দুপুরে বাড়ি ফিরেন। বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটের দিকে দ্বিতীয়বার ছুটেন আহারের জোগান দিতে।

কওমি মাদরাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার – বিস্তারিত জানুন

পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মানসিকতা ও সুস্বাদু ঝালমুড়ি তৈরিতে পারদর্শি হওয়ায় তার দোকানে ভিড় লেগে থাকে সবসময়ই। দুই হাতই নানারকমের মশলা আর মুড়িতে ব্যস্ত থাকলেও কান দু'টো বরাবরই আজানের অপেক্ষায় থাকে। আজান হলে বিক্রি বন্ধ করে আশপাশের কোনো মসজিদে ঢুকে নামাজ আদায় করেন।

কিছুটা অনুসন্ধানী চোখে একদিন তার কাজকর্মে গাঢ় নজর দিয়ে লজ্জায় পড়তে হলো। নামাজান্তে তিনি যে আমলগুলো আদায় করেন খুব কম মানুষই খুঁজে পাওয়া যাবে যারা এগুলোতে অভ্যস্ত। চার কুল পড়ে কিছুটা শব্দ করেই পড়তে থাকেন সুরা হাসর। জিকির ও আল্লাহর স্বরণে যেন হরদমেই নড়তে থাকে তার মুখ।

সাভারের এ ঝালমুড়ি বিক্রেতা থাকেন মজিদপুরে। প্রতিদিন এর আশপাশেই মুরি বিক্রি করেন।  জীবিকার তাগিদে ফরিদপুর ছেড়ে ঢাকায় আসেন প্রায় ১০ বছর হলো। কখনো কঠিন অভাবে পড়েন নি এমন স্বীকারুক্তিও দিলেন অনায়সেই।

বয়স ষাটোর্ধ্ব। তবে ক্লান্তি বা অসুস্থতা ধরে নি, তার চলাফেরা বলে দেয় তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ। ছেলে মেয়েদের বোঝা হতেও রাজি নন পরিশ্রমী ও কর্মঠ এই মানুষটি। জীবনযুদ্ধে লড়ে যেতে চান মৃত্যু পর্যন্ত।

তার একটাই কথা, বেঁচে থাকবো হালাল রুজি খেয়ে। হারাম পয়সা ছুঁয়েও দেখবো না কোনদিন। খালেছ ইবাদত আর হালাল রুজিকে আমৃত্যু ধরে রাখবো ইনশাআল্লাহ।