মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী
রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির সওগাত নিয়ে মুসলিম মিল্লাতের নিকট আগমন করেছিল সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান।
এ পবিত্র মাস সহমর্মিতা, সংযম, ধৈর্য ও প্রতিরোধের সুমহান বার্তা নিয়ে আগমন করেছিল। একে একে পরিপূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে মাহে রমজানের রূপালি চাঁদের স্নিগ্ধ কিরণ।
পূণ্যাশ্রয়ী জীবন গঠন ও সত্যনিষ্ঠতার বাস্তব অনুশীলনের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে মাহে রমজানের দিনগুলো।
সিয়াম সাধনা মুসলিম মিল্লাতকে পাপাচার, কামাচার ও মিথ্যাচার থেকে বিরত রাখার যে প্রশিক্ষণ দেয়, তা পরবর্তী জীবনের সকল ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হওয়াই এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
এই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করারই প্রশিক্ষণ চলে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে।
মাহে রমজানের এই বিদায়ক্ষণে আমাদের চিন্তা করা উচিত- এ পবিত্র মাহে রমজান আমাদেরকে যে শিক্ষা দিয়ে গেল, তা আমরা আমাদের বাস্তব জীবনের বাকি এগারো মাসে কীভাবে প্রয়োগ করতে পারি।
আমাদের রোজাদারদের মধ্যে কেউ হয়তো পূর্বে অবৈধ পথে অর্থোপার্জন করতো, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতারণা করতো, মদ্যপান, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদিতে লিপ্ত ছিলো, অন্যায়ভাবে অন্যের হক নষ্ট করতো, গিবত চর্চা ছিলো তার নিত্য দিনের অভ্যাস, নিজের শালীনতা ও পবিত্রতা বজায় না রেখে বেগানা নারী-পুরুষের সাথে অবাঞ্চিত কথা-কাজের সম্পর্ক ছিলো, দায়িত্বে অবহেলা করতো, আমানতের খিয়ানত করতো, অপরাধ প্রবণতা দূর না করে তা লালন করতো- যদি এ মাসের প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে বাকি জীবনে এ সকল অবাঞ্চিত কাজ পরিহার করার শপথ না নিতে পারি তাহলে রমজান মাসের আগমন এবং রোজা রাখা আর না রাখা আমাদের জন্য সমান হয়ে দাঁড়ালো।
রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- 'যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখলো আর মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারলো না, তার না খেয়ে থাকার প্রয়োজন আল্লাহ তাআলার কাছে নাই। (অর্থাৎ তার রোজা আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন না)। (সহিহ বুখারি)
আমাদের সমাজ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবণতার কাছে জিম্মি হয়ে আছে। এ সকল অপরাধ প্রবণতা নৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা সকল ধরনের মূল্যবোধকে গ্রাস করে চলেছে।
কিন্তু আমরা মাহে রমজানের রোজার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য অনুধাবন করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ সকল সমস্যার মধ্যে আরো অধিক জড়িয়ে পড়ছি। আমাদের সমাজে যতো লোক রোজা রাখে সে তুলনায় বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন খুবই কম। তাই দিন দিন আমাদের