শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১০ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
এনসিপির ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে আশরাফ মাহদী ও সানাউল্লাহ খান কওমি ছাত্রদের কেন একক দল বা নেতার অনুসরণ করতে হবে? সারাদেশের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের তথ্য চেয়েছে সরকার চট্টগ্রামে বিএসটিআই ও র‌্যাবের যৌথ অভিযান: ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ‘সরকার বিদ্যুতের ট্যারিফ স্থিতিশীল রাখতে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে’  ‘নবীন কর্মকর্তারা মাঠমুখী হয়ে কাজ করলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে’ গণভোটের ফলাফলে সংশোধনী এনেছে ইসি  ‘সরকারি কর্মকর্তারা সঠিক সময়ে অফিসে না আসলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ জামালপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: জরিমানা ২০ হাজার  বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই: নরেন্দ্র মোদী

আল্লামা সালিম কাসেমির বর্ণাঢ্য জীবন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হাওলাদার জহিরুল ইসলাম: দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা হুজ্জাতুল ইসলাম হজরত মাওলানা কাসেম নানুতবি রহ.এর দৌহিত্র, খবিতে ইসলাম মাওলানা কারি তৈয়্যব রহ. এর ছেলে হজরত আল্লাম সালেম কাসেমি। নানা গুণ আর বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ইলমের বাতিঘর এই বর্ষীয়ান আলেম আজ রব্বে কারিমের অমোঘ বিধানে সাড়া দিয়ে অনন্ত জগতে পাড়ি জমান।

ইতিহাস বলছে এই মনীষীর জন্ম হয় ১৯২৬ সনের ৮ জানুয়ারি, সাহারান ১৯২৬ সালের ৮জানুয়ারি ভারতের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ এলাকায় তিনি জন্মলাভ করেন৷ প্রাথমিক শিক্ষা লাভ হয় ঐতিহ্যবাহি ইলমি ধারক কাসেমি পরিবারেই৷ তার পিতা হজরত মাওলানা কারি তৈয়্যব রহ.৷ তিনি ভারতবর্ষে খতিবুল ইসলাম নামে পরিচিত ছিলেন৷ তিনিই ভারতীয় মুসলমানদের জন্য ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্রসোনাল ল বোর্ডে’র প্রতিষ্ঠাতা৷ দারুল উলুম দেওবন্দের সবচে দীর্ধস্থায়ী মুহতামিম ও (প্রিন্সিপাল) ছিলেন তিনি৷

আল্লামা সালেম কাসেমি প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন৷ এবং ধারাবাহিকভাবে পড়াশুনা শেষ করে কৃতিত্বের সাথে ১৯৪৮ সালে ফারাগাত হাসিল করেন৷ তার উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, শায়খুল আজম ওয়াল আরব হজরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানি, শায়খুল আদব হজরত মাওলানা এজাজ আলী, শায়খুল হাদিস হজরত ইবরাহিম বলিয়াবি, হজরত মাওলানা ফখরুল হাসান রহ.প্রমূখ৷

আর তার সহপাঠীদের মধ্যে হজরত মাওলানা মানজুর নোমানি রহ., হজরত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানি রহ. হজরত মাওলানা সাইয়্যিদ মুহাম্মদ রাবে হাসান নদবি হাফিযাহুল্লাহ প্রমুখ৷

পড়ালেখা শেষে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দেই শিক্ষক হিসবে খেদমতে নিযুক্ত হন৷ হেদায়া, মেশকাত, বুখারি শরিফসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের পাঠদান করেন৷ ১৯৮২সালে দেওবন্দে এখতেলাফ শুরু হলে তিনি তার বাবার সাথে ওয়াকফ দেওবন্দ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন৷ পরে এখানের প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পান তিনি৷

তিনি যেসব পদ পদবির অধিকারী ছিলেন তার কয়েকটি হলো, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সহ-সভাপতি, দারুল উলুম ওকফ দেওবন্দের প্রধান মুরুব্বী ও শুরা প্রধান, মাজাহিরে উলুম সাহারানপুরের শুরা সদস্য, আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি কোর্টের সদস্য, কুল হিন্দ রাবেতায়ে মাসাজিদের পৃষ্ঠপোষক, ইসলামিক ফিকহ একাডেমি ইন্ডিয়ার পৃষ্ঠপোষক৷

অপরদিকে তিনি বিভিন্ন সময়ে ইসলামের সেবায় বিশেষ অবদানের কারণে পুরস্কারও লাভ করেন৷ মিশরের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক উপমহাদেশের ‘বিশেষ আলেম’ পদবি, হুজ্জাতুল ইসলাম কাসেম নানুতবি রহ. অ্যাওয়ার্ড, হজরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ রহ.অ্যাওয়ার্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য৷

তিনি গত ক’ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় তার ছেলে মাওলানা সুফিয়ান কাসেমি ওয়াকফ দেওবন্দের ভারপ্রাপ্ত মুহাতামিমের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন৷ শেষের দিকে তার চলাফেরাও একদম সীমিত হয়ে যায়৷

আরো পড়ুন- আল্লামা সালেম কাসেমীর ইন্তেকালে আল্লামা আহমদ শফীর শো


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ