সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
‘পরীক্ষা’ ও ‘প্রশ্ন ফাঁস’ যেন আজ দেশে জোট বেঁধেছে। যেখানেই পরীক্ষা সেখানেই প্রশ্ন ফাঁস! প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা, এখন প্রতিটি স্তরেই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। শুধু পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায়ও।
এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এখন নতুন কিছু নয়। প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ব্যর্থতাকেও দায়ী করছেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বক্তব্য জাতিকে আরও উদ্বিগ্ন ও হতাশ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি আলোচনায় এলেও এটি বন্ধে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দেশবাসী ক্ষুব্ধ। বলা যায়, প্রশ্ন ফাঁস যেহেতু ঠেকানো যাচ্ছে না, তাহলে এত আয়োজন করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে কেন?
ভাবতে অবাক লাগে, দেশে মুড়ি মুড়কির মতো ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন কেনা-বেচা হচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশ, দেশব্যাপী প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ ব্যবহার করা হচ্ছে। ইনবক্সে কেনাবেচা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে কি না প্রথমে অস্পষ্টভাবে প্রশ্নটি আপলোড করা হয় এবং বলা হয়, পুরো ও স্পষ্ট প্রশ্ন পেতে হলে ইনবক্সে যোগাযোগ করুন। পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ২০১৭, ‘পিএসসি জেএসসি এসএসসি এইচএসসি অল ঢাকা বোর্ড কোয়েশ্চেনস ২০১৭’ ‘পিএসসি জেএসসি এসএসসি এইচএসসি কোয়েশ্চেনস সাজেশন অল বোর্ড এক্সামিন ২০১৭ + ২০১৯ + ২০ + ২১ বিডি, ফাঁস হওয়া প্রকৃত প্রশ্নপত্র ব্যাংক, প্রশ্ন ফাঁস, ‘পিএসসি জেএসসি এসএসসি এইচএসসি সাজেশন + কোয়েশ্চেনস ২০১৭-১৮ ইত্যাদি নামে একাধিক ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপ রয়েছে।
এসব পেজ এবং গ্রুপে পরীক্ষার আগেই সাজেশন এবং প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ ও গ্রুপগুলো কে বা কারা চালায় তা বের করা যাচ্ছে না কেন?
বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রমাণিত হলেও বাতিল করার উদাহরণ আছে মাত্র দু’একটি। চলতি বছর অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), এইচএসসি এবং চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে।
অনেক অভিভাবক প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণও দেখিয়েছেনà¥