শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হামলায় বিকৃত হয়ে গেছে মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল! হাজিদের সেবায় সুনাম কুড়াচ্ছে আল-মিনহাজ হজ ট্রাভেলস পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিন ১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ, কী হতে চলেছে ইসলামাবাদে? বায়তুল মোকাররম এলাকায় হকার-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে, কোনো অজুহাতে অফ রাখলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি রাজনীতিতে যারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে তাদের পরিণতি কিন্তু খুব ভালো হয়নি : নাহিদ ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে ঢাকায় 

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চুক্তি; আশ্রয় শিবিরে আতঙ্ক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তির খবরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতাদের অনেকেই। তাদের বক্তব্য মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত , বসতভিটা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাবার পরিবেশ তৈরি হয়নি। ফলে এখন তারা যেতে চায় না। অন্য দিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলছে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না।

মিয়ানমারে নির্যাতনের কারণে সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে গত ৫ মাসে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দু’দিন আগেই দুই দেশ একটি চুক্তি সই করেছে। তবে এই চুক্তি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

তবে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ের ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের একজন নেতা মোঃ নূর বলেছেন, দু’দেশের মধ্যে চুক্তির খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের অধিকার না পেলে বসবাসের মতো পরিবেশ সৃষ্টি না হলে তারা কিভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাবে। তাই তিনি মনে করছেন মিয়ানমারের রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের ফিরে যাবার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

গত ২৫ আগস্টে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, শুরুতেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের বালুখালিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন বেগম শামসুন নাহার নিজে স্বামী সন্তানসহ পরিবারে ছয় সদস্য নিয়ে।

শামসুন নাহার বলেছেন, নির্যাতনের কথা ভুলে নিজের ভিটেমাটির কথা চিন্তা করে ফেরত গিয়েও মিয়ানমারে থাকতে পারেননি। আমি মিয়ানমারে ফেরত যেতে চাই না। কারণ আমাদের ওপর অনেক নির্যাতন হয়েছে। সে জন্য আমি আমার পরিবারের সদস্যসহ এবার নিয়ে মোট তিন বারের মতো বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছি। এখন আমাদের নাগরিকত্ব ও থাকার জায়গার নিরাপত্তাসহ সকল অধিকারগুলো না পেলে সেখানে কিভাবে যাব।

আরেক শরণার্থী রোহিঙ্গা মোঃ হাসেম বলেছেন, আমাদের যে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা বলছে, তালিকাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কথা বলছে। মিয়ানমারে আমাদের নিয়ে গিয়ে কিভাবে রাখবে, কি মর্যাদা দেবে সে বিষয়ে কিছুই আমরা জানতে পারছি না। রোহিঙ্গারা কিভাবে সেখানে যাবে সে বিষয় নিয়ে তারা খুব চিন্তায় আছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যে সব আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে তাদেরও উদ্বেগ রয়েছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার বা ইউএনসিআর’এর ঢাকায় একজন মূখপাত্র জসার ত্রিপুরা বলছিলেন, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে অনেক রোহিঙ্গাই ইউএনসিআর কর্মকর্তার কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে রোহিঙ্গার কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চান।

তার মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা, নিরাপত্তার পরিবর্তন এবং মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে তারা তাদের মৌলিক অধিকার উপভোগ করতে পারে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়াটা যেন স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সাথে হয়। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত যাবার ব্যাপারটি যাতে টেকসই হয়, তাদের নির্যাতনের শিকার হয়ে আবার কয়েক মাস পরে বাংলাদেশে ফেরত না আসতে হয়।

অন্য দিকে বাংলাদেশর সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও থাকার ব্যবস্থা সহ অন্যান্য বিষয়গুলোতে মিয়ানমার ব্যবস্থা নেবে সেই আশ্বাস বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ