মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরের লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবি জমিয়তের সাইবার আইনে সাংবাদিকদের ভয়ের কোনো কারণ নেই: আইনমন্ত্রী ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকছে আইএমএফ’  নামাজে রাকাতসংখ্যা ভুলে গেলে করণীয় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক’ ‘সৌ‌দির পরিস্থিতি ঠিক হলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া‌ প্রবাসীদের নিয়ে আলোচনা’ পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের: আইনমন্ত্রী শায়খ আব্দুস সাত্তার: বীর মুজাহিদিনের প্রতিচ্ছবি সৌদিগামী আটকে পড়া যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থার দাবি

মানবিক দুই সংকটে সরব ভূমিকায় প্রশংসিত আলেমরা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হাওলাদার জহিরুল ইসলাম: ২০১৭৷ নানা কারণেই আলোচিত বছর৷ মানবিক সংকটের দিক থেকে এ বছর দুটি বিষয় আলোচনায় আসে সর্বাধিক৷ একটি উত্তরবঙ্গের বন্যা আর অন্যটি হলো বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট৷

উভয় সংকটেই সরকার ও জনগণের পাশাপাশি উলামায়ে কেরাম মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন৷

বন্যা সংকটে উলামায়ে কেরাম

২০১৭ এর মধ্য আগস্টে উত্তরাঞ্চেলে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়৷ উজান থেকে নেমে আসা প্রবল ঢলে পানির নিচে চলে যায় গ্রামের পর গ্রাম৷ ৬৪ টি উপজেলা চরমভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়৷ রাস্তাঘাট হয় প্লাবিত৷ স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয় চরমভাবে৷ জনজীবন হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত৷ ত্রাণের জন্য হাহাকার পড়ে ঘরে ঘরে৷

এই কঠিন সময়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে জাতির খেদমতে এগিয়ে আসেন উলামায়ে কেরাম৷ প্রথমে স্থানীয়ভাবে শুরু হয়৷ পরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক, ইসলামি রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক নানা সংগঠনের ব্যানারে উলামায়ে কেরাম ত্রাণ বিতরণ করেন৷ পৌঁছে দেন জরুরি চিকিৎসা সেবাও৷

কোথাও কোথাও ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করে দেন তারা৷ জমিয়ত, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন, ঐক্যজোট সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন৷ এমনকি তরুণ আলেমদের ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ‘আসহাবে কাহাফ’সহ অনেক গ্রুপ সরেজমিনে গিয়ে নগদ অর্থ ও প্রয়োনীয় আসবাবপত্র বিতরণ করা হয়৷

রোহিঙ্গা সংকটে উলামায়ে কেরাম

২০১৭’র আগস্টের শেষ দিকে তুচ্ছ কারণে হঠাৎই মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখান মুসলমানদের ওপর নির্যাতন শুরু করে৷ আর এ নির্যাতন পূর্বের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে এক বিভিষিকাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়৷ শুরু হয় নির্বিচারে গণহত্যা, গণধর্ষণ, বসত বাড়ি জালিয়ে দেয়াসহ নানাবিধ পৈশাচ্ক নির্যাতন৷ যা পরে জাতিগত নিধন বলে স্বীকৃত হয়৷

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও মগ দস্যুদের গণহত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণে বাঁচতে রোহিঙ্গার ঢল নামে টেকনাফ সীমান্তে৷ নাফ নদী পার হয়ে তারা প্রবেশ করতে থাকে টেকনাফ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায়৷ সহায় সম্বলহীন, ক্ষুধার্ত, নিপিড়ীত মানুষের সহয়াত্ব ছিলো চরম পর্যায়ে৷ তাদের মাটির নিচে একটু মাটি মিললেও ক্ষুধার তাড়নায় কাতরাচ্ছিলো হাজার হাজার রোহিঙ্গা৷

এবারও সবার আগে এগিয়ে আসেন উলামায়ে কেরাম৷ টেকনাফ উখিয়ার বিভিন্ন মাদরাসায় আশ্রয় নেয় শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থী৷ মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন৷ নিজ খরচে নাফ নদীর ওপারে অপেক্ষমান অসহায়দের আনতে চালু করেন বেশ কিছু নৌযান৷

তখনও সরকারি অনুদান পৌঁছেনি৷ দেশের নানা প্রান্ত থেকে টেকনাফ ছুটে যান উলামায়ে কেরাম৷ ব্যক্তিগত ও স্থানীয় জনগণের থেকে ত্রাণ তহবিল গঠন করেন৷ ইসলামি সংগঠনগুলো মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক কালেকশনের মাধ্যমে বড় ধরনের ত্রাণ তহবিল গড়ে তুলেন৷

ইন্সটল

বালুখালি, লেদা, নইক্ষাংছড়িসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যান ত্রাণ কার্যক্রম৷ খাদ্য, ওষুধ, পোশাক, ঘর তোলার আসবাব প্রদান,টিউবওয়েল স্থাপন, টয়লেট নির্মাণের সাথে সাথে মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করে দিয়েছেন চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ সব ধরনের প্রয়োজন পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তারা৷

এ ছাড়া ক্যাম্পগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গড়ে তুলেন শত শত মসজিদ মাদরাসা৷ শিশুদের প্রাধমিক শিক্ষার জন্য মকতবের পাশাপাশি গড় তুলেন স্কুলও৷

বছর শেষে উত্তরবঙ্গে বন্যার ভয়াবহ ক্ষত হয়তো কিছুটা শুকিয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের সমস্যার কোনো কূল কিনারা হয়নি। যে মৃত্যুদগ্ধে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তা কখনো শোকাতে পারবেন কিনা সেটাও বলা মুশকিল। তবু আমাদের প্রত্যাশা সব মানবিক সঙ্কট কাটিয়ে সুন্দর সমৃদ্ধ হোক সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ।

ফিরে দেখা ২০১৭ : মুসলিম বিশ্বের আলোচিত ঘটনাগুলো

গ্রিক মূর্তি ও কওমি স্বীকৃতি; শপথ থেকে স্বপথে


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ