শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
হাজিদের সেবায় সুনাম কুড়াচ্ছে আল-মিনহাজ হজ ট্রাভেলস পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিন ১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ, কী হতে চলেছে ইসলামাবাদে? বায়তুল মোকাররম এলাকায় হকার-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে, কোনো অজুহাতে অফ রাখলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি রাজনীতিতে যারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে তাদের পরিণতি কিন্তু খুব ভালো হয়নি : নাহিদ ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে ঢাকায়  ৫ সপ্তাহ পর আল-আকসায় জুমা, মুসল্লিদের ঢল আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা যাদের, নমিনেশনে অগ্রাধিকার তাদের : রিজভী

যেভাবে সহজেই কোণঠাসা করা যায় আমেরিকা-ইসরায়েলকে, ফর্মূলা দিলেন ড. এবিএম হিজবুল্লাহ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ড. এবিএম হিজবুল্লাহ
আলেম, প্রফেসর

মিষ্টার ট্রাম্প অবশেষে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে মেনে নেয়ার ঘোষণা দিলেন। এরপর শুরু হয় বিশ্বব্যাপী হৈচৈ। মুসলিম বিশ্ব রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এর শেষ কোথায়?

আরব বিশ্ব জরুরি বৈঠক ডাকবে। ওআইসি ইতোমধ্যে তাদের জরুরি সম্মেলনের ডাক দিয়েছে। কী হবে আগাম বলা মুশকিল।

অতীতের ঘটনাপ্রবাহ থেকে বুঝা যায় কারযকর কিছুই হবে না। অথচ মুসলিম বিশ্বে কী নেই। সারা দুনিয়াকে বশে রাখার মত সকল উপাদান রয়েছে মুসলিম বিশ্বে। তেল-গ্যাস খনি, সমুদ্র বন্দর, ভৌগলিক সীমারেখা, খনিজদ্রব্যসহ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা। যা দিয়ে মুহূর্তে সব কিছু এলোমেলো করে দেয়া যায়।

মুসলিম বিশ্ব একাট্টা হয়ে কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করুক আমেরিকাসহ সকল ইসরাইলপন্থী দেশের সাথে। বন্ধ করে দিক তেল-গ্যাস সরবরাহ, নিয়ন্ত্রণ করুক সমুদ্র বন্দর, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করুক, দেখা যাবে সবাই শান্তির জন্য চিৎকার দিয়ে উঠবে, থাম, আমরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছি।

কিন্তু এটা কি পারবে মুসলিম ও আরব বিশ্বের দেশগুলো। বাস্তবতা হল, পারবে না। ওরা জানে, কিছুদিন হুংকার, ধিক্কার জানাবে দেশের জনগণ। বিক্ষোভে বিক্ষোভে উম্মাতাল হবে রাজপথ। এরপর স্তিমিত হয়ে আসবে সবকিছু।

ইসরাইল তাদের সপ্ন পূরণে বসে থাকবে না। তাদের হাতে আছে বিশ্বের মোড়লেরা। যারা ইসলাইল রাষ্ট্র ঘোষণার পনের মিনিটের মধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছিল বৃটেন, আমেরিকা ও রাশিয়া। আছে ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, চীনসহ অন্যান্য দেশ।

বাহ্যত তারা এর নিন্দা জানালেও তলে তলে ঠিকই তারা ইসলায়েলের স্বার্থহানি হয় এমন কোন সিন্ধান্ত নেবে না। এটাই বাস্তবতা। জাতিসংঘ নামের বিনোদনসংঘ ইসরাইলের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। আগমীতেও পারবে না নিশ্চিত।

ইসরাইল তাদের দেশকে নীল নদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত নিয়ে যেতে চায়। তারা এও দাবি করে মদিনায় রয়েছে তাদের অধিকার। এটা তাদের ফেরৎ চাই।

মুসলিম জাতিকে তারা মনে করে বিশ্বের এক বোঝা। এদের থেকে মুক্তি পেতে তার মরিয়া। এ জন্য তারা চায় মুসলিম বিশ্ব তাদের ক্রিড়নক হিসাবে তাদের দয়ায় বেঁচে থাকুক। বিশ্ব পরিক্রমায় তারা যেন নাক না গলায়। কেউ কোন ধরনের বাড়াবাড়ি করলে তাকে কিভাবে সরাতে হয় তারা তা ভাল করেই জানে। এর অনেক উদাহরণ রয়েছে অতীত ইতিহাসে।

কিন্তু শেষে একটি কথা বলেই ক্ষ্যান্ত হচ্ছি। সেটা হল ওরা জানে না এ বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে প্রতি মুহূর্ত জ্ঞাত আছেন। বাহ্যিকভাবে আমাদের কৌশল নির্ধারণ করে এগুতে হবে। আমাদের প্রতিবাদ সাধ্যানুসারে অব্যাহত থাকবে।

আমরা থামব না। আমরা এগিয়ে যাব সামনের পানে। চূড়ান্ত ফায়সালা হবে নিয়মাতান্ত্রিক জিহাদের (সন্ত্রাস নয়) মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ।

লেখক: প্রফেসর, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ