বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ ।। ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
পুকুরে গোসলে নেমে প্রাণ গেল দুই মাদরাসা ছাত্রের দুই হিন্দু অনাথ ভাইকে মানুষ করে বিয়ে দিলেন মুসলিম দম্পতি বিজয় দিবসে ৮ হাজার ২৯৯ বন্দিকে মুক্তি দিলো তালেবান সরকার ইউপি নির্বাচনে ফের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন রফিকুজ্জামান অনু নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ডের মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি চলছে জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা নয়, নির্দেশনা না মানলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত সংসদ মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ‘জাতিসংঘ সভাপতির পদ কোনো এক দেশের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ নেই’ 

বাবা হারা শিশু সুমাইয়াই এখন ছয় সদস্যের প্রধান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

টেকনাফ প্রতিনিধি: জন্মদাতা পিতাকে হারিয়ে দশ বছরের রোহিঙ্গা শিশু সুমাইয়া আক্তার এখন ৬ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের প্রধান। যে বয়সে তার বাবা-মায়ের তত্বাবধানে থাকার কথা, সে বয়সেই সে নিজের মাসহ ভাই ও বোনদের দায়িত্ব কাধে নিয়ে ঘানি টানছে।

মিয়ানমার মংডুর বুচিডং থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা সুমাইয়া তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বালুখালী শরনার্থী শিবিরে থাকেন।

বাবার অনুপস্থিতিতে দশ বছরের শিশু সুমাইয়া আক্তার এখন তার ছয় সদস্যের পরিবারের প্রধান দায়িত্বে থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছে।

পরিবারের অপর সদস্যরা হচ্ছে ভাই মোহাম্মদ ফারুক (৭), গিয়াস উদ্দিন (৬), ইয়াসিন (৫), নুর ইয়াসমিন (৩)।

বুচিডং এর বাড়ীতে মিয়ানমারের সেনা-পুলিশের গুলিতে আগে মারা যায় এই পাচঁ রোহিঙ্গা শিশুর বাবা বশির আহমদ (৩৩)। বাবা নিহত হওয়ার পর সুমাইয় আক্তারের মা হাসিনা আক্তার (২৫) পরিবারদের নিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে চলে আসেন বাংলাদেশে।

সুমাইয়া আক্তার জানায়, বুচিডং এর পাশের গ্রামে আমাদের বাড়ি ছিল। এখানে আসার আগে আমার বাবাকে মগরা কেটে হত্যা করেছে। এখন মা, ভাই-বোনদের নিয়ে বালুখালী ক্যাম্পে থাকি। মা, ভাই বোনদের দেখা শুনা আমাকেই করতে হয়। পরিবারের সব খরচ আমাকে জোগাড় করতে হয়।

আমরা ক্যাম্পে যে পরিমান খাদ্য সামগ্রী পাই, তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। তাই আমি ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন জিনিস পত্র নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রি করি।

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় ১৭ নভেম্বর দুপুরে এই রোহিঙ্গা শিশু সুমাইয়া আক্তারের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়।

সরকার এখন পর্যন্ত এতিম ও অভিভাবকহীন রোহিঙ্গা শিশুকে সনাক্ত করেছে। এসব শিশুদের কারো হয়তো বাবা নেই, কারো মা নেই এমনি কি বাবা- মা দুইজনই নেই। আবার অনেক শিশু আছে যাদের বাবা- মা থাকলেও সীমান্তের ওপারে কিংবা এপারে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এসব শিশুদের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এনে তাদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ