বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ।। ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘একজন প্রবীণ আলেমের ওপর নৃশংস হামলার বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব’ কাউন্সিল সফল করতে মিরপুরে জমিয়তের মতবিনিময় সভা ইমাম কেন বেছে নিলেন আত্মহত্যার পথ? শায়খে চরমোনাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, দলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি ১ হাজার ওমরা যাত্রীর খরচ বহন করবেন সৌদি বাদশাহ এসএসসি-২০২৭ জানুয়ারিতে, ২০২৮ থেকে আসছে নতুন কারিকুলাম ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ, ইসরায়েলের ভয়ংকর পরিকল্পনা ফাঁস ক্বারী আবু রায়হানের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় খেলাফত মজলিস তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি নিচে, প্লাবনের শঙ্কা নেই বিকেএম ময়মনসিংহ জেলা শাখার নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

আগামী নির্বাচনে হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা নন, ইউনূস: ভারতীয় পত্রিকা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম :আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পান না। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ বিবেচনা করছেন। ভারতের তেহেলকা ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের গৌহাটির বিশিষ্ট সাংবাদিক নভ ঠাকুরিয়া।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কে বেশি জনপ্রিয়- একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নাকি তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী? তার ভাষায়, এমন প্রশ্ন বাংলাদেশের মানুষের কাছেও একটি প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি তার প্রতিবেদনে বলেন, গত এক দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিকে শাসন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ ইউনূস ব্যাংকার থেকে সামাজিক বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি পান এবং তার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকে তিনি দেশের মানুষের নজর কাড়তে শুরু করেন।

ভারতীয় ওই সাংবাদিকের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা দারিদ্রপীড়িত দেশটিতে তার রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেছেন। বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনে নির্বাচনের জন্যে অপেক্ষা করছে যখন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে দৃশ্যত তার অবস্থান হারিয়েছেন।

সাংবাদিক নভ ঠাকুরিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ প্রধানের জন্যে প্রফেসর ইউনূস তাই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, যিনি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এবং ইউনূস বাংলদেশের ১৭ কোটি মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা রাখেন। বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনা ইউনূসের সমালোচনা করেছেন। মুসলিম অধ্যুষিত দেশটির একজন নোবেল বিজয়ী সরকার প্রধানের সমালোচনার বাইরে নন।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। বিদেশ ভ্রমণেও হাসিনা -ইউনূসকে গরিব মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদে ঋণদাতা বা রক্তচোষা ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে গরিব নারীদের জন্যে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার জন্যে প্রফেসর ইউসূসের দীর্ঘদিনের ইতিহাস রয়েছে। কয়েক দশক আগে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৬ সালে তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনিও নোবেল পুরস্কার পান।

পরবর্তীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা তার সমালোচনা শুরু করেন। উন্নয়নশীল দেশটির ভেতরে এবং বাইরে অনেক পর্যবেক্ষও অনাকাঙ্খিত এই বিতর্কের স্বাক্ষী হয়ে ওঠেন। এক বছর আগে প্রফেসর ইউনূসের সাক্ষাতকার নেওয়ার সময় তিনি ইঙ্গিত করেন স্থানীয় গণমাধ্যমে কিছু উপাদান যা তাদের প্রতি শত্রুতা সৃষ্টি করেছেন।

তিনি এও বলেন, সরকার এ ধরনের সম্মেলন ভণ্ডুল করার সঙ্গে জড়িত ছিল না। তবে ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকে ওই সম্মেলনে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনটি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারিন্ডেন্ট’এর কাছে জমা দেয়া হয় গত ২০ জুলাই। সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ২৮ ও ২৯ জুলাই। ওই সম্মেলনে সামাজিক ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের মধ্যে আলোচনা, বিতর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্য ছিল। বিশেষ করে সম্পদের অসম বন্টন মোকাবিলায় কীভাবে উদ্ভাবনী উপায়ে করা যায় তার কৌশল নির্ধারণই ছিল ওই সম্মেলনের একটি উদ্দেশ্য।

সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, ওয়ার্ল্ড অলিম্পিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জোয়েল বিউজো, সুইজ্যারল্যান্ডের কেইথ টাফলে, ফ্রান্সের জ্যাকুয়েস বার্জার, যুক্তরাষ্ট্রের রাঙ্গু সালগেম, কানাডার রিচার্ড সেন্ট-পিয়েরে, ফ্রান্সের নিকোলাস হ্যাজার্ড, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ল্যান্ডার্স, মালয়েশিয়ার দাতো চ্যারন মোখজানি, আজারবাইজানের মাতিন কারিমলি, চীনের বেই ডুওগুয়াং এবং ওয়াং ঝেইনইয়াও, ভারতের শঙ্কর ভেঙ্কটেশ্বরান, অনিল কুমার গুপ্ত, আচ্যুত সামন্ত ও রাহুল বোস প্রমুখ। সম্মেলনে হাজার দুই আমন্ত্রিত ব্যক্তির মধ্যে ৫০টি দেশের ৪০০ অতিথির অংশ নেয়ার কথা ছিল। ফেসবুক ব্যবহার করে সম্মেলন চলাকালে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও ছিল।

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক নভ ঠাকুরিয়া- ভারতের জার্নালিস্ট কমলা সাইকিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য ও গৌহাটি ভিত্তিক মিডিয়া কমেনটেটর।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ