হাবিবুর রহমান মিছবাহ
প্রিন্সিপাল মারকাযুত তাকওয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা
ছেলেটির শিক্ষা জীবনেও ছিলো ত্যাগ আর কষ্ট। শিক্ষা জীবন শেষে কর্মের তাগিদে ছুটে আসে রাজধানীতে। শুনেছে ঢাকায় নাকি টাকা ওড়ে। কিন্তু বাস্তবতা তাকে কাঁদিয়েছে। দিয়েছে দু:সহ যন্ত্রণা। কেউ জায়গা দিতে চায় না। মূল্যায়ন তো নেই-ই।
প্রথম সাক্ষাতে বন্ধুরা বুকে টেনে নিলেও যদি জানতে পারে তাদের কাছে আশ্রয় নিতে এসেছে, তাহলে তারাও পালিয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ছেলেটি একবার ছুটে গিয়েছিলো এক বন্ধুর কাছে। তারা ঘনিষ্ঠ ক্লাসমেটও ছিলো। ভেবেছিলো বন্ধুর কাছে থেকে একটি চাকরী খুঁজে নিবে। কল্পনাও করেনি অন্তত এ বন্ধুটি তাকে তাড়িয়ে দিবে। বন্ধুটি একটি মসজিদের ইমাম। প্রথম রাত পার হলো দুই বন্ধুর মধুর আলাপচারিতায়। কিন্তু বন্ধুর চেহারায় বিরক্তির ছাঁপ লক্ষ্য করলো ছেলেটি। বাদ ফজর বন্ধু বললো, দোস্ত! আমি তোমাকে রাখতে চাইলেও মসজিদ কমিটি অনুমতি দিচ্ছে না। ছেলেটির বুঝতে বাকী রইলো না কমিটির অযুহাতে বন্ধু তাকে তাড়িয়ে দিতে চায়। গিয়েছিলো আপন ভাইর কাছে। কিন্তু সেখান থেকে যে দু:খ পেয়ে ফিরে এসেছিলো ছেলেটি, তা বর্ণনার ভাষা তৈরী হয়নি পৃথিবীতে। এবার ছেলেটি বুঝতে পারে ঢাকা নামক এ অচিনপুরে মানবতা ও সহানুভূতি বলতে কিচ্ছু নেই। এখানে টাকা না থাকলে কেউ কাউকে চিনে না। এমনকি আপন ভাইও না।
শক্তমনে শপথ নেয় ছেলেটি। নিজের ক্যারিয়ার নিজেই গড়বে। ছুটে চললো ঢাকার এক গলি হতে অন্য গলিতে। ক্ষুধার্ত শরীরে সারাদিন শেষে কোনো এক মসজিদের বারান্দায় ক্লান্ত বদনটা এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল থেকে শুরু হয় আবার পথচলা। ওদিকে সদ্য বিবাহিতা প্রিয়তমা স্ত্রীও চাইছে স্বামীর এ দুর্দিনে তার পাশে থাকবে। খেয়ে থাকুক আর না খেয়ে থাকুক, দু'জন থাকবে একসাথে, এক জায়গায়। ভাগাভাগি করবেন সুখ-দু:খ। ছোট্ট একটি মেস ভাড়া করলো ছেলেটি। টাকার অভাবে ফ্যামিলি বাসা ভাড়া নেবার তৌফিক হয়নি তার। কিন্তু সেখানে কোনো পর্দানশীন নারী না পারবে রান্না করতে আর না পারবে অযু ইস্তেঞ্জা করতে। যেহেতু সেটি মেস। স্ত্রীর কাছে জমা থাকা সামান্য কিছু টাকা দিয়ে দুই কেজি চাল ও কিছু সবজি কিনে নিজেই রান্না করে ছেলেটি।