সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন কেন্দ্রীয় নূরানী তালীমুল কুরআন মাদরাসার উস্তাদ আব্দুল জলিলের ইন্তেকাল ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১০ হাজার মৃত্যু বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জাতীয় ইমাম পরিষদের ‘বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা ছিল দেশের স্বার্থে, পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়’ সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা  মুসলিম আন্দালুসের কৃষি বিপ্লব: স্বর্ণযুগের গৌরবগাথা শনিরআখড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার

খৃস্টধর্মের বড়দিন কী?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

borodin_khrista

আবিদ আনজুম: আজ ২৫ ডিসেম্বর শুভ বড় দিন। খৃস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ দিনকে বিশ্বের খৃস্টানরা নানাভাবে পালন করে থাকে। উৎসব আয়োজনে মেতে উঠে।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরে এই দিনে ইসলামের নবি হজরত ঈসা আ. জন্মগ্রহণ করেন। খৃস্টানরা মনে করে ইশ্বরের মানবজাতিকে পাপ থেকে পরিত্রাণের জন্য ঈসা আ. (যিশুখৃস্টের) এর জন্ম হয়েছিল। সারা বিশ্বে তার অনুসারীদের মতো বাংলাদেেশের খৃস্টান সম্প্রদায়ও দিনটি উৎসব উদ্যাপন করে থাকেন।

বড়দিন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে জমকালো সজ্জায়। খৃস্টানদের বিশ্বাস অনুযাযী যিশুর জন্ম হয়েছিল গোয়ালঘরে। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে বড়দিনে গির্জাগুলোতে প্রতীকী গোয়ালঘর তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। অনেকে তাঁদের বাড়িতেও গোয়ালঘর সাজান।

রাজধানীর পাঁচতারা হোটেলগুলোতেও সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি, আলোকসজ্জায় বড়দিনের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। গির্জাগুলোতে হবে বিশেষ প্রার্থনা। থাকবে ধর্মীয় গান। বাড়িতে বাড়িতে তৈরি করা হবে কেক, পিঠাসহ সুস্বাদু খাবার। আপ্যায়ন করা হবে অতিথিদের। আজ সরকারি ছুটির দিন।

Image result for ক্রিসমাস ট্রি

ক্রিসমাস ট্রি কীভাবে এলো?

বড়দিনে ক্রিসমাস ট্রির গুরুত্ব দেখা যায সবখানেই। সবুজ গাছে হরেক রকম জিনিস ঝোলানো হয়। জ্বালানো হয় মরিচ বাতি। গাছটাকে দেখতে অদ্ভুত লাগে। আপেল, পাখি, মোমবাতি, ঘুঘু, মাছ, ফুল, ফল আর স্বর্গদূত দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়ে থাকে। নানা রংয়ের আলোয় সাজানো এই ক্রিসমাস ট্রির প্রচলন একদিনে হয়নি কিংবা বলা যায় শুরু থেকে ছিলোও না।

ক্রিসমাস ট্রি হিসেবে যে গাছটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সেটি হলো ‘ফার গাছ’। এটি মূলত দেবদারু জাতীয় গাছ। এই গাছেই বিভিন্ন রংয়ের আলোক সজ্জা আর বিভিন্ন দ্রব্যে সাজিয়ে রাখা হয়। ক্রিসমাস ট্রি সত্যিকারের হতে পারে আবার সেটি কৃত্রিমও হতে পারে। প্রথমদিকে এটি কেবল রাজ দরবারের বিষয় ছিলো। পরে অবশ্য সবার মধ্যেই এই ট্রি সাজানোর প্রথাটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ক্রিসমাস ট্রিতে আলোর ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন অর্নামেন্ট দিয়ে সাজানো হয়। এই গাছের উপরে একটি তারা বা স্বর্গদূত বসানো হয়। এই স্বর্গদূতটি বেথেলহেমে জন্ম নেয়া যিশুখ্রিস্টের প্রতীক।

জানা যায়, ১৬ শতকে জার্মানিতে ক্রিসমাসের এই ট্রি সাজানোর প্রচলন হয়েছিল। তবে, ক্রিসমাস ট্রিকে সাজানোর এই বিষয়টি কোথায় থেকে কেমন করে এলো সেটি কেউই স্পষ্ট বলতে পারে না।

ইউরোপের ঐতিহ্যের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর শুরুটা। খ্রিস্টান লোক বিশ্বাস অনুসারে, ক্রিসমাস ট্রির ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে জার্মানির গেইসমার শহরের এক সাধু বনিফেস এর সঙ্গে। সেন্ট বনিফেস (৬৭২-৭৫৪ সালে) একটি প্রাচীন ওক গাছের মূলে একটি দেবদারু জাতীয় ফার গাছের বেড়ে ওঠা দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি এটাকে যিশুখ্রিস্টের প্রতি বিশ্বাসের চিহ্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তবে বর্তমানে ক্রিসমাস ট্রি যেভাবে সাজানো হয় সেটি অবশ্য বেশি দিনের পুরোনো নয়। এই প্রথাটির প্রচলন করেছিলেন মার্টিন লুথার। স্বর্গোদ্যানের ট্রি অফ লাইফ এর চিহ্ন হিসেবে এই প্রথার প্রচলন করেন তিনি। এই ট্রির সঙ্গে মোমবাতি জ্বালানোর প্রথা শুরু হয়েছিলো ১৮ দশকের শেষদিকে। জার্মানির রাইনল্যান্ডের প্রটেস্টানদের কাছে থেকে এই প্রথার শুরু হলেও রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও এটি ছড়িয়ে পড়ে।

আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ