সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন কেন্দ্রীয় নূরানী তালীমুল কুরআন মাদরাসার উস্তাদ আব্দুল জলিলের ইন্তেকাল ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১০ হাজার মৃত্যু বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জাতীয় ইমাম পরিষদের ‘বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা ছিল দেশের স্বার্থে, পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়’ সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা  মুসলিম আন্দালুসের কৃষি বিপ্লব: স্বর্ণযুগের গৌরবগাথা

লংমার্চে বাধা, সরকারের পরিকল্পনা কী?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

পলাশ রহমান
সাংবাদিক

palash_rahman4ইসলামী আন্দোলনের মিয়ানমার অভিমুখী লংমার্চ করতে দেয়নি সরকার, কিন্তু রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র অবরোধ করে সমাবেশ করতে দিয়েছে। কারণ কী? লংমার্চ বন্ধ করে ঢাকায় সমাবেশ করানো হলো কেনো? এই সমাবেশ দিয়ে সরকার কি অর্জন করতে চায়? সরকার কি বিদেশিদের দেখাতে চায় যে বাংলাদেশে বিরোধী দল আছে, তারা বড় বড় সমাবেশ করে, এমন কিছু? নাকি দিল্লি থেকে বিশেষ কোনো নির্দেশ এসেছে?

রোহিঙ্গা বিষয়ে হাসিনা সরকারের নীতি কী? তারা আসলে কী চায়? বিভিন্ন সূত্র বলে বাংলাদেশে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে, অথচ সরকারের মন্ত্রী বলেন, দুই লাখ। সরকারের কাছে রোহিঙ্গাদের তালিকা আছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার। এমন হযবরল অবস্থা কেনো?

সরকার ঘোষণা দিয়েছে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না, অথচ দেদারসে ঢুকছে। তাদের স্রোত ঠেকাতে সরকারের খুব একটা চেষ্টা আছে বলে মনে হয় না। তাহলে ঢুকতে না দেয়ার এই ঘোষণা কেনো? বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশকে সমালোচনার পাত্রে পরিণত করার কারণ কী? সরকার কেনো মিয়ানমারের উপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে না? আন্তর্জাতিক জনমত তৈরির চেষ্ট করে না কেনো? মুসলিম দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনা করে না কেনো?

মালেশিয়ার সরকার যদি সমাবেশ করতে পারে, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধি যদি আলোচনার জন্য আসতে পারে, তবে বাংলাদেশ পারে না কেনো? রোহিঙ্গা নির্যাতন বার্মার রাজনৈতিক সমস্যা, কিন্তু এর দায় কেনো নেবে বাংলাদেশ? এদের চাপ নেবে কেনো বাংলাদেশ? বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ কেনো এটা নিয়ে প্রোপাগাণ্ডা করে না?

আসলে আমাদের সরকার চায় কি? ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতের মতো বার্মাকেও তোয়াজ করার নীতি গ্রহণ করেছেন শেখ হাসিনা? রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেক বিদ্রোহী আছে, যারা আরাকানের স্বাধীনতা চায়। কাল যদি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা এবং বার্মার রোহিঙ্গা এক হয়ে আরাকান এবং চট্রগ্রাম মিলিয়ে স্বাধীনতা চায়, অামাদের সরকারের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করে, তখন কী করবে সরকার?

এসব বিষয়ে কি সরকারের কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা আছে? রোহিঙ্গাদের একটা অংশকে ব্যবহার করছে সরকারি দলের নেতা এমপিরা। তারা ওদের ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করাচ্ছে। এ বিষয়েও সরকার নীরব, কেনো? এই নীরবতা যে এক সময় বিষ ফোঁড়ায় পরিণত হতে পারে সে খবর কি সরকারের কাছে আছে? নাকি ক্ষমতা রক্ষা করাই এখন তাদের একমাত্র কাজ?

ইসলামী আন্দোলনের নেতা মুফতি ফয়জুল করিমের একটা কথা ভালো লেগেছে, রোহিঙ্গারা যদি বার্মার নাগরিক না হয় তবে আরাকানও বার্মার অংশ নয়। আরাকান রাজ্য ছেড়ে দিতে হবে বার্মাকে, নয়তো বাংলাদেশ ওই অংশ দখল করে নিতে বাধ্য হবে।

লেখক: প্রডিউসার, রেডিও বেইস ইতালি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ