মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিমা চিকিৎসক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

fast_muslimআব্দুল্লাহ বিন রফিক:  উপমহাদেশের প্রথম বাঙালি মুসলিম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজীর নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে সোমবার। এ উপলক্ষে জোহরা বেগম কাজী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঢাকায় ও গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে দোয়া মাহফিল ও তার কবর জিয়ারত করা হয়।

ডা. জোহরা বেগম কাজীর (১৯১২-২০০৭) জন্ম ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের মধ্য প্রদেশের রঞ্জনগাঁওয়ের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তার পৈতৃক নিবাস মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার গোপালপুর গ্রামে প্রখ্যাত কাজী পরিবারে। পিতা ডা. কাজী আবদুস সাত্তার পেশায় একজন চিকিৎসক এবং উপমহাদেশীয় রাজনীতিক হিসেবে বেশ নাম-ডাক ছিলো তার। কাজী আবদুস সাত্তারের জন্ম ১৮৭৫ সালে। ১৮৯৫ সালে মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুল থেকে এলএমএফ এবং ১৯০৯ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি নিজে একজন কোরআনের হাফেজ ছিলেন এবং চিকিৎসা দপ্তরের চাকরি থেকে অবসরগ্রহণের পর চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি মসজিদে ইমামতিও করেছেন। জোহরা কাজীর মাতা মোছা. আনজুমান উন নিসা  পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার বিলবিলাস গ্রামে ১৮৮৬ সালে  জন্মগ্রহণ করেন। শেরেবাংলা একে ফজলুল হক ছিলেন তার খালাতো ভাই। আনজুমান উন নিসা বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও রাজনীতি-ঘনিষ্ঠ একজন মানুষ ছিলেন। তিনি রায়পুর পৌরসভার মহিলা কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

একজন মেধাবী ছাত্রী হিসেবে জোহরা বেগম কাজী বাল্যকাল থেকেই প্রথম স্থান অধিকার করে সব পর্যায়ের সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি ১৯২৯ সালে আলীগড় মুসলিম মহিলা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রথম বাঙালি মুসলমান আলীগোড়িয়ান হিসেবে মেট্রিক পাস করেন। তিনি ১৯৩১ সালে আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দিল্লির হার্ডিঞ্জ মহিলা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম বিভাগে শীর্ষস্থান অধিকার করে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। এ বিরল মেধা কৃতিত্বের জন্য তিনি ব্রিটিশ-ভারতের ভাইস রয় টমাস ফ্রিম্যান (১৮৬৬-১৯৪১) কর্তৃক প্রদত্ত ভাইস রয় পদকে ভূষিত হন।

তিনি দ্বিতীয় বাঙালি মুসলমান নারী, যিনি ১৯৫৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব অবসটেরিসিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্ট থেকে ডিআরসিওজি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর তিনি লন্ডন থেকে এফআরসিওজি এবং এমআরসিওজি স্বীকৃতি লাভ করেন। প্রসঙ্গত, এর আগে ১৯৫১ সালে তারই ছোট বোন শিরিন কাজী লন্ডন থেকে প্রথম বাঙালি মুসলমান নারী হিসেবে ডিআরসিওজি ডিগ্রি লাভ করেন।