শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিন ১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ, কী হতে চলেছে ইসলামাবাদে? বায়তুল মোকাররম এলাকায় হকার-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে, কোনো অজুহাতে অফ রাখলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি রাজনীতিতে যারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে তাদের পরিণতি কিন্তু খুব ভালো হয়নি : নাহিদ ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে ঢাকায়  ৫ সপ্তাহ পর আল-আকসায় জুমা, মুসল্লিদের ঢল আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা যাদের, নমিনেশনে অগ্রাধিকার তাদের : রিজভী পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হতে পারে বিকেলে

ঈদ উপলক্ষ্যে জীবনে কখনো নতুন জামা কেনা হয়নি: আল্লামা হবিগঞ্জী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী
প্রিন্সিপাল, উমেদনগর টাইটেল মাদরাসা, হবিগঞ্জ

আমার ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিচারণ করতে হলে ফিরে যেতে হবে ৭০/৭৫ বছর আগের জীবনে। তখন বর্তমান সময়ের মতো এত প্রযুক্তি ছিল না। ইন্টারনেট, টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদির তেমন প্রচলন না থাকায় ঈদুল ফিতরের আমেজ তৈরি হতো চাঁদ দেখা থেকেই। আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই অন্যরকম এক আনন্দ বয়ে যেতে আমাদের মনে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়তো ঈদ উৎসবের সুবাতাস। আমরা দলবেঁধে চাঁদ দেখতাম। সন্ধ্যায় চাঁদ উঠলে ইমাম বা মুয়াজ্জিন সাহেব ঘোষণা দিয়ে দিতেনÑ আগামীকাল ঈদ। সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা করতো না কেউ। এমনকি আমার এলাকা থেকে কয়েক মাইল দূরের লোকজন ঈদ পালন করছে কিনা সেটাও দেখা হতো না। আমরা চাঁদ দেখিছি, ব্যাস ঈদ পালন করবো। এটাই ছিল তখনকার সময়ে মানুষের বিশ্বাস। ফলে ঈদ পালন েিনয়ে কোনো ধরনের ফেতনা সৃষ্টি হতো না।

ঈদের দিন সকাল সকাল ঈদগাহে যেতাম নামাজ পড়তে। আমাদের বাড়ি থেকে অনেক দূর, হবিগঞ্জ জাতীয় ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়তাম। অন্যরকম আনন্দ উৎসাহ নিয়ে পায়ে হেঁটেই যেতাম সকলে। সবার মাঝে একটা সম্প্রীতি ছিল তখন। হিংসা-বিদ্বেষ ছিল না। মারামারি ছিল না। ঈদের আনন্দ ভাগাবাগি করতাম পরস্পরে। নামাজ থেকে এসে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যেতাম। তারাও আসতো আমাদরে বাড়িতে। মুরিব্বিদের সালাম করতাম। কবর জিয়ারত করতাম।

এখন ঈদের দিনটা কেমন যেন হিন্দুদের পূজা অনুষ্ঠানের মতো হয়ে গেছে। নামাজ শেষ হতে না হতেই নাচ-গানে ছেয়ে যায় প্রতিটি রাস্তা-ঘাট। মেয়েছেলেরা অশ্লীলভাবে ঘুরাফেরা করে ঈদের দিন। আমাদের সময় এমনটা কল্পনাই করা যেত না। আমাদের মনে রাখা উচিত, মুসলমানদের ঈদ কেবল আনন্দ উৎসব নয়; ইবাদতও বটে। তাই মনইচ্ছা মতো কাজ করলে হবে না। এদিনের নির্দিষ্ট আমল করা চাই। ঈদের রাতে দোয়া কবুল হয়। বেশি বেশি দোয়া করা চাই। ঈদের নামাজের আগে-পরে কবর জিয়ারত করা চাই।

ঈদের দিন সুন্দর জামা পরিধান করা যেতে পারে। অনেকে মনে করে- নতুন জামা না হলে ঈদই হয় না। আসলে বিষয়টা এমন না, পূরনো জামা কাপড়েও ঈদ হয়। তবে যথাসম্ভব পরিষ্কার করে পড়া উচিত। আমার জীবনে মনে হয় না ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো সময় নতুন জামা কিনেছি। নতুন জামার প্রতি এখনও কোনো আকর্ষণ নাই আমার।

নতুন প্রজন্মের জন্য পরামর্শ থাকবে- তোমরা ঈদের দিন যতটুকু সম্ভব পরিষ্কার জামা পড়ে ঈদের নামাজে যাবে। কবর জিয়ারত করবে। নাচ-গান পরিহার করবে। রঙ-তামাশা পরিহার করবে। আগেও বলেছি- মুসলমানের ঈদ কোনো পূজা অনুষ্ঠান না। আমি এগুলোর শক্ত প্রতিবাদ জানাই। আমাদের ছোট থেকেই এগুলো পরিহার করতে হবে। দীন-ধর্মের ভেতরে থেকে উৎসব পালন করতে হবে।

শ্রুতি লিখন : আমিন ইকবাল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ