মাওলানা ইমরান আনোয়ার: সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার, যিনি আমাদের ইসলামের নেয়ামতে সৌভাগ্যবান করেছেন। দরূদ ও সালাম সে মহামানবের প্রতি, যাকে প্রেরণ করা হয়েছে আমাদের সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা হিসেবে। তিনি পুরো মানব জাতির জন্যই এক জাজ্বল্যমান আলোকবর্তিকা। তাঁর পরিবার, সাথীবর্গ, এবং কেয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও শান্তি কামনা। তারপর-
একজন মুসলমানের জীবন এজন্য শ্রেষ্ঠ যে তা সবসময় সৎ কাজ ও ধর্মীয় অনুশাসনে ভরপুর থাকে। সে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর খোদাভীরুতা তাঁকে বিরামহীন ইবাদাতে মগ্ন করে দেয়। সত্য কথা বলা, ভালো কাজ করা, এবং আল্লাহ তায়ালার প্রতি গভীর ভালবাসার সাধনায় সে নিবেদিত হয়। এই নিবেদনে কোনও দুঃখ-কষ্ট, বিরাগ অথবা অভিমান থাকে না। মোটকথা হল, একজন মুসলমানের জীবন পুরোটাই আল্লাহর ইবাদাত, আনুগত্য, এবং আল্লাহর ‘নৈকট্য লাভ করিয়ে দেয়’ এমন ভালো কাজে ব্যপ্ত হয়। যে কাজে শ্রষ্ঠার সাথে আত্মার মেলবন্ধন ঘটে, জীবনের প্রতিটি অনুভাগে সে কাজের অনুশীলন একজন মুসলিমকে আরো পরিশীলিত করে তুলে।
প্রকৃত মুসলমানের জীবন কখনো ইবাদাত থেকে বিচ্যুত হয় না। এতে করে তাঁর জন্য একটি সৃজনশীল জীবন-পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, দিনে-রাতে পাঁচবেলা নামাজ। এরমাঝে আবার সপ্তাহে একদিন জুমা’র নামাজ, পুরো বছরে একটি রোজার মাস, এর অনুগামী হয়ে শাওয়ালের ছয়টি মুস্তাহাব রোজা, প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা, মাসের তিনটি মুস্তাহাব রোজা, তারপর আসে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদাত; এভাবে সৎ কাজ ও সুন্দর চরিত্রের বিনিময়ে একজন মুসলিম আল্লাহ’র কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে।
এখানেই শেষ নয়। আছে পবিত্র হজ ও কুরবানির সৌন্দর্য। ওমরা পালন, হজ আদায়কারী ব্যতিত অন্যদের আরাফাহ’র দিনে রোজা রাখা, পবিত্র আশুরার দিনে ও এর আগে-পরে মোট দুটি রোজা পালন, বিত্তবান ও সম্পদশালীদের জন্য যাকাতের বাধ্যবাধকতা, অসহায়দের সাহায্য করা ও মানুষের সাথে সদয় আচরণ, বেশি বেশি নফল ইবাদাত, ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ; এসবই একজন মুসলমানের জীবনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকে। আর মানবতা ও ভালোবাসার ছবি প্রতিবিম্ব হয় তাঁর বিনীত অবয়বে। ফলে একজন প্রকৃত মুসলিম অবধারিতভাবে তাঁর সমাজ ও পরিবেশের জন্য হিতৈষী বনে যায়। সাথে তাঁর স্রষ্টারও ভালোবাসা লাভ করে। তবে এটা à¦
