মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

আসুন, বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

bonna2আমিন ইকবাল : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা ইতোমধ্যেই বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা, তলিয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলের খেত। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার পরিবার। পানিতে ভাসতে ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই এসব অতি দরিদ্র শ্রেণির মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে মারা গেছে ১৪ জন সাধারণ মানুষ। বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় এই ত্রাণ নিতান্তই অপ্রতুল।

বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকৃতির নিজস্ব কোনো সৃষ্টি নয়। বরং জল-স্থল, চন্দ্র-সূর্য, আলো-বাতাস তথা প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে যা কিছু ঘটে সেগুলো মহান আল্লাহর সূক্ষ্ম পরিকল্পনারই অংশ। দুর্যোগ-দুর্ঘটনাও তার ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ। বিপর্যয়ের জন্য দায়ী মানুষের কৃতকর্ম। সমাজে অন্যায়-অনাচার বেড়ে গেলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে বেশি। তবে দুর্যোগ শুধু পাপের কারণেই হয়- তা নয়; মানুষের জন্য একটি পরীক্ষাও।

রাসুল সা. হাদিসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজেও উম্মতের ওপর দুর্যোগের ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন। তিনি দোয়া করেছেন যেন তার উম্মতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে একসঙ্গে ধ্বংস না করা হয়। কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিলে রাসুল সা. বিচলিত হয়ে পড়তেন। আল্লাহর শাস্তির ভয় করতেন। বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার করতেন এবং অন্যদেরও তা করার নির্দেশ দিতেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়, বন্যায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে অগণিত মানুষ। অসহায়দের সাহায্যে এগিয়ে আসা একটি মহৎ কাজ। যে কোনো দুর্যোগের মুহূর্তে প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ সাধ্যানুযায়ী সাহায্যের হাত প্রসারিত করা। মানুষ মানুষের জন্য- এই নীতি প্রয়োগের উৎকৃষ্ট সময় হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্ত। খরা-বন্যা, ঝড়-বৃষ্টি, টর্নেডো-জলোচ্ছ্বাস, প্রতিটি দুর্যোগেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। আল্লাহ কারো সামর্থ্য দেখেন না, তিনি দেখেন আন্তরিকতা। মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা থাকলে এর সুফল আল্লাহর কাছ থেকে অবশ্যই পাওয়া যাবে।

তাছাড়া মানুষের বিপদে তার পাশে দাঁড়ানো সওয়াবের কাজ। এটা মানবতা এবং ঈমানি দায়িত্বও বটে। তাই আসুন, নিজের প্রতিষ্ঠান, সংগঠন কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্যার্ত মানুষের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিই। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পূরণ করি মানবতা ও ধর্মের দাবি।

আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ