শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
বায়তুল মোকাররম এলাকায় হকার-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে, কোনো অজুহাতে অফ রাখলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি রাজনীতিতে যারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে তাদের পরিণতি কিন্তু খুব ভালো হয়নি : নাহিদ ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে ঢাকায়  ৫ সপ্তাহ পর আল-আকসায় জুমা, মুসল্লিদের ঢল আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা যাদের, নমিনেশনে অগ্রাধিকার তাদের : রিজভী পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হতে পারে বিকেলে মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল, আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে বলাকা কমিউটারের যাত্রা জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

প্রবাস জীবনে ঈদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

Eidফাহিম বদরুল হাসান, প্যারিস থেকে : চিকিৎসা-বিজ্ঞান বলছে, একজন সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ ৪৫ ইউনিট ব্যাথা সহ্য করতে পারেন, অথচ মায়েদের "প্রসবব্যাথা" কখনো কখনো ৫৭ ইউনিট পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়! অন্যভাবে বললে, একসাথে ২০টি হাড় ভাংগাকালীন যে কষ্ট হবে, সন্তান জন্মকালে তারচে' বেশি কষ্ট পান একজন মহিলা! কেউ আবার এই প্রসবব্যাথাকে মৃত্যুযন্ত্রণার সাথে তুলনা করেন।

মায়ের এই জন্মদানকালীন অনুভূতি, আরেকজন জন্মধাত্রী ছাড়া বোঝা একেবারেই অসম্ভব। যত-ই আকর্ষনীয় এবং প্রাঞ্জল ভাষায় "birth pain" কে প্রকাশ করা হোক, যত-ই অস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অভিনয় অভিনয় করে দেখাক না কেন, মায়ের এই কষ্টকে অনুভব করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

অনুরূপভাবে একজন প্রবাসী বাংলাদেশির বিদেশে থাকাকালীন অনুভূতি কেমন হয়, এটা যে কখনো প্রবাসে শ্রমিক হিসেবে আসেনি তার জন্য ধারণা করা অসম্ভব। বাংলাদেশ থেকে প্রবাসের অনুভূতি নেয়া যেমন, পৃথিবী থেকে সূর্যের তাপ অনুভব করা। আপনি হয়তো প্রবাসীরদের নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের ডকুমেন্টারি দেখেন,পত্রিকায় কিংবা বই-এ আর্টিকেল পড়েন। কিন্তু এগুলো কি পারে প্রবাসীর কষ্টের সিকিপরিমাণ তুলে ধরতে?

এভাবেই চাপা পড়ে থাকে, প্রায় সকল প্রবাসীদের জীবনের অনুভূতি। অন্যের আনন্দ এবং চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিজের অনুভূতিকে আপন অন্তরীক্ষে মাটি-চাঁপা দেয়।

এই যে ঈদ এলো। "ঈদ কী, প্রবাসীদের জীবনে ঈদের প্রভাব কী" এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসে, আজব এক ঈদানুভূতি। মিডল-ইস্টের দেশগুলোতে হয়তো দিনটাতে ছুটি থাকে। দেশে-বিদেশে কিছু ফোন করে একটু ঈদের কুশল বিনিময় করে দুএকজন বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা করেই শেষ।

আবার ইউরোপ আমেরিকার প্রবাসীদের ঈদ আরো করুণ। অন্য দিনের মত শুধুই একটি দিন। অন্যান্য দিনের থেকে কোনো পরিবর্তন নেই। হয়তো ভাগ্যবশতঃ ছুটি। কিন্তু বেশিরভাগের শুধু ঈদের নামাযেই ঈদ সমাপ্ত। কেউ তো আবার ঈদের নামাযেরও সুযোগ হয় না!!

প্রবাসীদের জীবনে সেরকমভাবে ঈদের উৎসব না থাকলেও রয়েছে বিশাল এক আনন্দ। আনন্দটা অন্যের আনন্দে। দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনের অনুভূতিই যেন তাদের অনুভূতি। ঠিক সময়ে মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানকে যদি ঈদ উপলক্ষে টাকা পাঠাতে পারে, একজন প্রবাসীর যেন শ্রেষ্ঠ ঈদ। ঈদের অনেক পূর্বে থেকেই প্রবাসীরা ঈদে দেশে টাকা পাঠানোর প্ল্যান সাজাতে থাকে। কবে এবং কোথা থেকে টাকাটা পাঠালে দেশের আত্মীয়রা ভাল রেট পাবে, কীভাবে পাঠালে যথাসময়ে তাদের কাছে পৌঁছবে ইত্যাদি সকল হিশেব কষে, যখন ঈদের দিন ফোন করে যখন জানতে পারে সবাই আনন্দে ঈদ সেলিব্রিট করছে, প্রবাসীর যেন আনন্দের অন্ত নেই। এটাই তার ঈদ, এটাই ঈদের খুশি। পরিবারের সুখে ওরা হাসে, পরিবারের দুঃখে ওরা কাঁদে। দেহটা বিদেশে কিন্তু আত্মাটা সর্বক্ষণ দেশেই পড়ে থাকে।

ঈদের এই লগ্নে শুভকামনা রইল, পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি। প্রতিটি মুহূর্ত কাটুক ঈদের আমেজে।

আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর/ওএস


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ