সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন কেন্দ্রীয় নূরানী তালীমুল কুরআন মাদরাসার উস্তাদ আব্দুল জলিলের ইন্তেকাল ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১০ হাজার মৃত্যু বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জাতীয় ইমাম পরিষদের ‘বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা ছিল দেশের স্বার্থে, পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়’ সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা  মুসলিম আন্দালুসের কৃষি বিপ্লব: স্বর্ণযুগের গৌরবগাথা

ওদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

buaওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : আমাদের প্রায় প্রত্যেকের বাসায় কাজের লোক আছে, যারা আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যাদের সেবা গ্রহণ করে চলেছি প্রতিনিয়ত। কাজের লোকরা নিজেদের আরাম হারাম করে আমাদের আরামের খেয়াল রাখছে। রাত নেই, দিন নেই আমাদের আরাম-আয়েশের জন্য খেটে চলেছে। সেই সকালে ঘুম থেকে উঠে শুরু, আবার রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত চলবে হুকুম পালন করা।

একটি হাদিসে এসেছে , একবার এক সাহাবি এসে নবীজিকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাসুল! আমি খাদেমকে (কাজের লোক বা গোলামকে) কতবার মাফ করব? নবীজি চুপ থাকলেন। সাহাবি আবার জিজ্ঞাসা করলেন। এবার নবীজি বললেন, ‘প্রতিদিন ৭০ বার’ (জামে তিরমিজি, হাদিস-১৯৪৯)।
ভুল তো মানুষেরই হয়। একজন কাজের লোকেরও ভুল হয়। সেক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ হবে ওপরের হাদিস থেকে তা আমরা জানতে পারলাম। ৭০ বার পর্যন্ত মাফ করতে হবে। এখানে ৭০ মানে ৭০ সংখ্যা উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো যতবার মাফ করার প্রয়োজন দেখা দেবে ততবার মাফ করবে।

তোমাদের কারো অধীনে যদি কেউ থাকে, তাহলে সে যেন নিজে যা খায় তাকেও তা থেকে খাওয়ায়। নিজে যা পরিধান করে তাকেও তা থেকে পরিধান করায়। এবং তোমরা তাদের ওপর সাধ্যের বেশি কাজ চাপিয়ে দিও না। যদি দাও তাহলে নিজেও সে কাজে তাকে সহযোগিতা করো’। সহিহ বুখারি হাদিস : ২৫৪৫

কার ভুল হয় না? ভুল হবেই। সুতরাং তাদের ভুল হয়ে গেলে রাগ দমন করা চাই। রাগ দমন করা তো মুমিনের গুণ। আল্লাহতাআলা মুমিন-মুত্তাকির গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘যারা ক্রোধ দমন করে, মাফ করে দেয়।’ সুতরাং শুধু ক্রোধ দমন করাই নয়, বরং মাফ করে দিতে হবে। আর গায়ে হাত তোলার তো প্রশ্নই ওঠে না। অসহায়ের গায়ে হাত তোলা কত বড় অন্যায়, তা আপনার বিবেককে প্রশ্ন করুন।
তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা উচিত। এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যার ফলে সে মনে কষ্ট পায়। এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যার কারণে সে হীনমন্যতায় ভোগে। কাজের ছেলেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে না, তাই রুচি হয় না। ওদের পরিচ্ছন্ন থাকা না থাকা তো আমাদের ওপর নির্ভর করে। কারণ আমরাই ওদের দায়িত্বশীল। একটি হাদিসে নবী (সা.) আরও বলেছেন, আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীন করেছেন। তোমাদের কারো অধীনে যদি কেউ থাকে, তাহলে সে যেন নিজে যা খায় তাকেও তা থেকে খাওয়ায়। নিজে যা পরিধান করে তাকেও তা থেকে পরিধান করায়। এবং তোমরা তাদের ওপর সাধ্যের বেশি কাজ চাপিয়ে দিও না। যদি দাও তাহলে নিজেও সে কাজে তাকে সহযোগিতা করো’। সহিহ বুখারি হাদিস : ২৫৪৫

নবী (সা.) অন্য একটি হাদিসে আরও উল্লেখ করেছেন, ‘যখন খাদেম খাবার প্রস্তুত করে তোমার সামনে পেশ করে, তখন (পারলে তাকে তোমার সঙ্গে বসিয়ে খাওয়াও) তাকে যদি তোমার সঙ্গে বসিয়ে খাওয়াতে না পারো অন্তত তার হাতে এক-দুই লোকমা তুলে দাও। কারণ এ খাবার প্রস্তুত করতে গিয়ে (আগুনের তাপ ও) সব কষ্ট তো সেই সহ্য করেছে’ (সহিহ বোখারি, হাদিস-২৫৫৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস-১৬৬৩)।

বাড়ির শিশুরাও কাজের লোকের সঙ্গে অনেক সময় অন্যায় আচরণ করে। তাদেরও শেখানো দরকার কাজের মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হয়। অনেক সময় আমাদের অসতর্কতায় আমাদের কাছ থেকেই বাড়ির শিশুরা কাজের মানুষের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা শেখে। আমরা যদি বিষয়টি শুধরে না দিই, তাহলে আমাদের সন্তানরা এখান থেকে জুলুম করা শিখবে, যার দায়ভার আমাদের ওপরই বর্তাবে। আমাদের সবার উচিত কাজের লোকের সঙ্গে ভালো আচরণ করা, সঙ্গে সঙ্গে ভুল হলে মাফ করে দেওয়া। আল্লাহ আমাদের সে তৌফিক দান করুন। আমিন।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ