সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন কেন্দ্রীয় নূরানী তালীমুল কুরআন মাদরাসার উস্তাদ আব্দুল জলিলের ইন্তেকাল ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১০ হাজার মৃত্যু বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জাতীয় ইমাম পরিষদের

হারিয়ে যাচ্ছে আম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

32-Phitsanulok-mango-fruitsআবিদ আনজুম : উচ্চ ফলনশীল আম গাছের ভীড়ে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রায় সাতশ’র অধিক আমের জাত। এগুলোর মধ্যে অনেক জাতের আমগাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর কিছু জাত বিলুপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে।

বেশি ফলনের জন্য গাছে হরমোনের ব্যবহার ও অতিমাত্রায় রাসায়নিক সারের জন্য অনেক সময় আমগাছ মরে যায়। এছাড়াও এককালীন বেশি টাকার প্রয়োজনে বয়স্ক আমগাছ কেটে ফেলা, নগরায়ন কিংবা নতুন নতুন বসতি স্থাপনের জন্য অনেক প্রজাতির আমগাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। তার বদলে আশে পাশে লাগানো হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল জাতের আম্রপালি, ফজলি, হিমসাগর, লক্ষণভোগ জাতের আমগাছ।

আর এভাবেই দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে নানা জাতের বাহারি নামের বিভিন্ন প্রজাতির আমগাছ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, কানসাট, ভোলাহাট ঘুরে দেখা গেছে, শত শত একর ধানি জমিতে আম বাগান করা হচ্ছে। আর সেসব বাগানে লাগানো হয়েছে ফজলি, আশ্বিনা, হিমসাগর, জোহরি, আম্রপালি কিংবা ল্যাংড়া জাতের আমগাছ।

ভোক্তার চাহিদার কথা মাথায় রেখে এর বাইরে কোহিতুর, চোষা, গোপালভোগ জাতের আমের চারাও লাগানো হয়েছে। তবে সংখ্যায় তা খুবই কম।
শিবগঞ্জের ধোবড়া বাজার এলাকার আমের চারা ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বাংলানিউজকে জানান, বাগানিদের চাহিদা মতো তারা আমের চারা উৎপাদন করেন। ফজলি, আশ্বিনা, হিমসাগর, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগসহ কয়েক জাতের আমের চারার চাহিদা থাকায় তারা এগুলোই উৎপাদন করেন। অন্য চারা উৎপাদন করলে তা বিক্রি হয় না। পড়ে থাকে বছরের পর বছর।

শিবগঞ্জের একাডেমি এলাকার আমচাষি শামিম খান জানান, এক সময় বৃন্দাবনি, গোলাপবাস, দাদভোগ, গোড়ভোগ, ফুনিয়া, দিলশাদ, কাঞ্চন খোসাল, সিন্দুরি, খুদি ক্ষিরসাপাত, গোলাপ খাস, টিক্কাফরাশ, দুধিয়া, দেওভোগ, দুধস্বর, নারিকেলি, নয়ন ভোগ, নাগ ফজলি, বৈশাখী, বারমাসি, বোম্বাই, বৌ ভুলানি, বাদশাভোগ, মতিচুর, মোহনভোগসহ শত শত প্রজাতির আম পাওয়া যেতো। বর্তমানে সেগুলো তেমন একটা দেখা যায় না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষণা কেন্দ্র) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, এক সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আটশ’ প্রজাতির আমগাছ দেখা যেতো। এর কোন প্রজাতি কখন কে কেটে ফেলেছেন, কিংবা কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই।

তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম গবেষণা কেন্দ্রে ৩১৭ প্রজাতির আমের গাছ আছে। এ জাতগুলো হয়তো হারিয়ে যাবে না। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমের জাতগুলো কী অবস্থায় আছে, এর কোন কোন জাত হারিয়ে গেছে তা জানা সম্ভব নয়।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ