সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে’ চট্টগ্রামের প্রবীণ আলেম শাহ সুলতান আহমদের ইন্তেকাল প্রফেসর হজরত হামীদুর রহমান রহ.-এর চলে যাওয়ার তিন বছর ‘ক্ষমতার ভাগ নয়, দেশ ও মানুষের কল্যাণই ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য’ আলিয়া মাদ্রাসায় নিয়মিত ক্রীড়া অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা হরমুজে পুঁতে রাখা মাইনের আঘাতে দুই তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ আজও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন কী-বোর্ডের ইংরেজি অক্ষর এলোমেলো থাকে কেন? ২ নভেম্বর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশা থাকলেও আত্মরক্ষায় প্রস্তুত তেহরান: আরাঘচি

প্রফেসর হজরত হামীদুর রহমান রহ.-এর চলে যাওয়ার তিন বছর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকৌশলবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা, দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা—সব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ দীনি সাধক হিসেবে। একদিকে ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক সহকারী অধ্যাপক, অন্যদিকে ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত দুই আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হজরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও মুহিউস সুন্নাহ মাওলানা শাহ আবরারুল হক রহ.-এর খলিফা। বলছি মাওলানা প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান রহ.-এর কথা। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর ইন্তেকালের তিন বছর পূর্ণ হলো আজ।

১৯৩৮ সালের ৯ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন প্রফেসর হামীদুর রহমান। ১৯৫৫ সালে ইসলামিয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। ১৯৫৭ সালে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমান বুয়েট) ভর্তি হন। উচ্চশিক্ষা শেষে ১৯৬৫ সালে প্রশিক্ষণের জন্য ইংল্যান্ডে যান। ১৯৬৯ সালে বুয়েটে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সেখানে অধ্যাপনা করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে প্রকৌশলবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক সাধনা। ১৯৭৪ সালে তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ হজরত মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। পাঁচ বছর পর তাঁর কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেন।

হাফেজ্জী হুজুর রহ.-এর ইন্তেকালের পর তিনি হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর সর্বশেষ খলিফা মুহিউস সুন্নাহ মাওলানা শাহ আবরারুল হক রহ.-এর সান্নিধ্যে আসেন। তাঁর কাছেও বায়াত গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে খেলাফত লাভ করেন। এভাবে দেশের প্রখ্যাত দুই আধ্যাত্মিক সাধকের সান্নিধ্য ও দিকনির্দেশনায় গড়ে ওঠে তাঁর আত্মশুদ্ধির জীবন।

পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন ধর্মীয় অনুশাসন ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি যত্নশীল। ১৯৬৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন তিনি। তাঁর পাঁচ ছেলেই হাফেজ ও আলেম।

জীবনের শেষ সময়ে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন প্রফেসর হামীদুর রহমান। এর আগে দুইবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৬ বছর।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ