বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


জাভেদ গামিদি সম্পর্কে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাভেদ আহমেদ গামিদির কয়েকটি আকিদা ও ধর্মীয় মতবাদকে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ। এ ধরনের বিশ্বাস পোষণকারী ব্যক্তিকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী কাফের ও ইসলামের গণ্ডির বাইরে বলে অভিহিত করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির একটি ফতোয়ায়।

ফতোয়াটির নম্বর ৫৭১৯৫ এবং ফতোয়া আইডি 708-674/L=6/1436-U। এতে জাভেদ আহমেদ গামিদির আটটি মতবাদ ও বক্তব্য তুলে ধরে সেগুলোর শরয়ি অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে হযরত ঈসা (আ.)-এর জীবিত থাকা ও কিয়ামতের আগে পুনরায় পৃথিবীতে আগমনে অবিশ্বাস, ইমাম মাহদির আবির্ভাব অস্বীকার এবং হাদিসের প্রামাণিকতা ও সুন্নাহর কর্তৃত্ব নিয়ে তার অবস্থান।

ফতোয়ায় বলা হয়, হযরত ঈসা (আ.)-এর জীবিত থাকা এবং কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে তার পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণের বিষয়টি পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াত ও অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এ প্রসঙ্গে সুরা আন-নিসার ১৫৭ থেকে ১৫৯ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলা হয়, আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা (আ.)-কে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই তার মৃত্যুর আগে তার প্রতি ঈমান আনবে—আয়াতের এ বক্তব্য বাস্তবায়িত হবে কিয়ামতের আগে তার পুনরাগমনের মাধ্যমে।

এ ছাড়া ফতোয়ায় ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমন এবং ইমাম মাহদির আবির্ভাবসংক্রান্ত হাদিসের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। আল্লামা শাওকানির বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়, ইমাম মাহদি, দাজ্জাল ও হযরত ঈসা (আ.)-এর অবতরণসংক্রান্ত হাদিসগুলো মুতাওয়াতির পর্যায়ের।

হাদিসের প্রামাণিকতা অস্বীকারের বিষয়ে ফতোয়ায় বলা হয়, মুতাওয়াতির হাদিস ও প্রমাণিত শরয়ি বিষয় অস্বীকার করা গুরুতর আকিদাগত বিচ্যুতি। এ প্রসঙ্গে ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি থেকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, মুতাওয়াতির বিষয় অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফের। একইভাবে শরহুল ফিকহিল আকবারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কোনো ফকীহ সহিহ হাদিস বর্ণনা করলে সেটিকে ‘কিছুই নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করাও কুফরি।

প্রশ্নে গামিদির যেসব মতবাদ তুলে ধরা হয়েছে, তার মধ্যে আরও রয়েছে—কাউকে কাফের আখ্যা দেওয়ার অধিকার কোনো মুসলমানের নেই বলে মত দেওয়া; হাদিসের মাধ্যমে দ্বীনের কোনো আকিদা বা আমল সাব্যস্ত হওয়া অস্বীকার করা; হাদিসের সাহায্যে কুরআনের সাধারণ বিধানকে নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করার বিরোধিতা; নিজের বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য জ্ঞান-বুদ্ধির নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হলে হাদিস প্রত্যাখ্যান এবং সুন্নাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে কুরআনের মতোই তাওয়াতুরের শর্ত আরোপ করা।

এ ছাড়া প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়, গামিদির মতে সুন্নাহর সংখ্যা মাত্র ২৭টি। রাসুলুল্লাহ সা.-এর বিভিন্ন কর্ম, নফল ইবাদত, খাবার ও পোশাকসংক্রান্ত পছন্দকে সুন্নাহ হিসেবে স্বীকার করেন না তিনি।

ফতোয়ার শেষাংশে বলা হয়, প্রশ্নে উল্লিখিত আকিদাগুলো পোষণকারী ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত।

ফতোয়াটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন: সাকিব আব্দুল্লাহ কাসেমী

মূল উর্দু ফতোয়ার লিঙ্ক https://darulifta-deoband.com/home/ur/islamic-beliefs/57195]

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ