শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ।। ১২ চৈত্র ১৪৩২ ।। ৮ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :

দাওরায়ে হাদিসে ৭ হাজার ফেলের অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

কওমি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে অনেকে দাবি করছেন, এবারের পরীক্ষায় প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য বা ফেল করেছে। অথচ ‘এবার যারা মাওলানা হলেন’ তালিকায় তাদের নাম চলে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকে হাস্যরস করছেন। কেউ কেউ হাইয়্যাতুল উলয়াকেই তুলোধুনো করছেন। 

তবে আওয়ার ইসলামের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তথ্যটিই ভুয়া। মোট অকৃতকার্য বা ফেলের সংখ্যা দুই হাজারের কিছু বেশি। সাত হাজার বলে যে দাবিটি করা হচ্ছে, সেখানে মূলত মাকবুল বা তৃতীয় স্তরে উত্তীর্ণদেরও ধরা হচ্ছে। অথচ এই পরীক্ষায় যারা ‘মাকবুল’ হন তারাও উত্তীর্ণ। অনুত্তীর্ণ বা ফেল যারা তাদের ‘রাসেব’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তাহলে এই অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা? হাইয়্যাতুল উলয়ার দায়িত্বশীলরা দাবি করছেন, একটি নির্দিষ্ট মহল এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা বলছেন, প্রকৃত তথ্যের অপলাপ ঘটিয়ে কওমি অঙ্গনকে ছোট করার হীন উদ্দেশ্যেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। 

গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় এবারের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মুহিউস্সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, এবারের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় গড় পাসের হার প্রায় ৮৯.৯৯ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ২৩,৮৮১ জন। মোট উত্তীর্ণ ২১,৪৯১ জন। মোট অনুত্তীর্ণ (ফেল) ২,৩৯০ জন। পরীক্ষা বাতিল ২০ জন।

লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রদের পাসের হার ৯২.৯১% এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৮৪.৮১%। মুমতাজ (স্টার) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১,৪৭৮ জন ছাত্র এবং ৯৭ জন ছাত্রী। এছাড়া মেধা তালিকায় ৩১ জন ছাত্র এবং ১৭ জন ছাত্রী স্থান করে নিয়েছেন।

ফলাফল প্রকাশের পর একটি মহল দাবি করছে যে, এবার প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী ফেল করেছে। অথচ দাপ্তরিক তথ্যমতে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২,৩৯০ জন। অর্থাৎ পাসের হার যেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ, সেখানে ফেলের হার মাত্র ১০ শতাংশ।

এ বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার সদস্য ও বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু আওয়ার ইসলামকে বলেন, ‘এ বছর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্য বছরগুলোর তুলনায় অনেকটাই কম। যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা মূলত ‘মাকবুল’কে (তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ) ফেলের তালিকায় দেখিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কওমি অঙ্গনকে ছোট করে অযাচিত আনন্দ পাওয়ার জন্যই এই ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’

যারা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের জন্য হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। তিনি জানান, পরীক্ষা প্রবিধি অনুযায়ী অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান। সাধারণত সব শিক্ষার্থী সব কিতাবে ফেল করেন না। যে নির্দিষ্ট কিতাব বা বিষয়টিতে ফলাফল খারাপ হয়, তারা সেই বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে তাদের স্তরটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। এই পুনঃপরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো একজন শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট স্তরের যোগ্যতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দাওরায়ে হাদিসের এবারের ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক। পাসের হার বৃদ্ধি এবং মেধাবীদের সংখ্যা কওমি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ভিত্তিহীন পরিসংখ্যান ছড়িয়ে কওমি অঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা নিন্দনীয়ই এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ