|| বিশেষ প্রতিনিধি ||
পবিত্র রমজানে দেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে চলছে ছুটি। ঈদুল ফিতরের সপ্তাহখানেক পরেই শুরু হবে শিক্ষা কার্যক্রম। তবে এই ছুটির মধ্যে লাখ লাখ শিক্ষার্থী অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পরীক্ষার ফলাফলের। কওমি মাদরাসার বোর্ডগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল-হাইয়্যাতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা। এছাড়া সবচেয়ে বড় শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কয়েকটি স্তরে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা। গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পরীক্ষার ফলাফলই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
আওয়ার ইসলামের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুটি পরীক্ষার ফলাফলই অল্প কিছু দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে বেফাকের ফলাফল রমজানের শেষ দশকে এবং আল-হাইয়্যাতুল উলয়ার ফলাফল ঈদের পর সপ্তাহখানেকের মধ্যে প্রকাশের কথা রয়েছে।
হাইয়্যাতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান জানান, এবারও দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষার ফলাফল ঈদুল ফিতরের পর দেওয়া হবে। গত বছর ৩ শাওয়াল ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার ঈদের পর সপ্তাহখানেকের মধ্যে এই ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বেফাকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দ্রুত সময়ে ফলাফল দিতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেফাকের দায়িত্বশীলদের একটি বৈঠক আজ রোববার (৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত বেফাকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে আওয়ার ইসলামকে বলেন, আমরা ফলাফল দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি ২৫-২৬ রমজানের দিকে ফলাফল ঘোষণা করা যাবে। তবে ফলাফল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবেন নীতি-নির্ধারণী কর্তৃপক্ষ।
গত ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার সারাদেশে একযোগে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা শুরু হয়ে চলে ১০ দিন। এবার ২৫৯টি কেন্দ্রে সর্বমোট ২৩ হাজার ৮৮১ জন এই পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৬৮ এবং ছাত্রী সংখ্যা ৮ হাজার ৬১৩ জন।
বেফাকের ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ১৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই পরীক্ষা সারাদেশের ২৪০৭টি মারকাজে হিফজ-কিরাআতসহ ৭টি মারহালায় তিন লাখ ৭৩ হাজার ২০৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ছাত্র এক লাখ ৫০ হাজার এবং ছাত্রী দুই লাখ ২৩ হাজার ২০৩ জন।
এমএম/