কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ছে। তিস্তার পানি সামান্য কমলেও বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডেও পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় পানি আরো বেড়ে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করবে। এতে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পয়েন্টে নদ-নদীর ভাঙন তীব্র হয়ে উঠছে। ঝুঁকিতে পড়েছে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, দুটি বাজার ও ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে রবিবার চিলমারী কাচকোল বাজারের দক্ষিণে কেডি ওয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের বাঁধে ধবস দেখা দিয়েছে। ডেবে যাচ্ছে পিচিং করা ব্লক। এতে এলাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে।
গত ১০ দিনে এই এলাকায় ১৫টি বসতভিটা ও ১৬ বিঘা জমি বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে উত্তর নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ বাজার ও আনন্দ বাজার। এলাবাসী ভাঙন রোধের দাবীতে কয়েকদিন আগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গত এক মাসে জাহাজের আলগা চরের অর্ধ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিলীন হওয়ার পথে জাহাজের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে দই খাওয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নতুন বাজারসহ কয়েকটি স্থাপনা।
এদিকে, দুধকুমারের ভাঙনে সদর উপজেলার যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া, ভগবতিপুর, নাগেশ্বরীর চর নারায়নপুর ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়ায় ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বেশকিছু ঘরবাড়ি। ধরলার ভাঙনে সারডোব ও চর বড়লই এলাকায় আবাদী জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তবে বাড়িঘর ও স্থাপনা ছাড়া জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশনা না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তিস্তার ভাঙনে রাজারহাট উপজেলার পলাশপুর গ্রামের বিস্তৃর্ন আবাদী জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডেও কোন সাড়া না পেয়ে এলাকাবাসী গাছের ডাল ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। এখানে নদীর কিনাওে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে কয়েকটি বাড়ি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে ২০টি পয়েন্টে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যে ৪-৫টি পয়েন্টে পয়েন্ট ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
এসএইচ/