নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির দাম। একইসঙ্গে মাছ ও গরুর মাংসের উচ্চমূল্য আগেই চাপে রেখেছে ক্রেতাদের। এর মধ্যে সামান্য কমেছে শুধু ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের কাছে বাজার করা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এমন চিত্র দেখা যায়।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় টমেটো, গাজর, ফুলকপি, আলু ও লাউয়ের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি কেজি টমেটো ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১০০ টাকায় উঠেছে। গাজর ১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। ফুলকপিও ৮০-৯০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১০০ টাকার নিচে মিলছে না।
লাউয়ের বাজারেও বেড়েছে দাম। গত সপ্তাহে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতিটি লাউ এখন কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকায়। নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসার সবজি আলুর দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তবে কয়েকটি সবজির দামে সামান্য স্বস্তি দেখা গেছে। লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলার দামও ৮০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৬০ টাকা।
এ ছাড়া ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও পটল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজির বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৭৫-১৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সোনালী মুরগির দামও কমে ৩৭০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় নেমেছে।
তবে পাকিস্তানি লেয়ার মুরগির বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। সপ্তাহখানেক আগে ৩২০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া এ মুরগি এখন কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম বাড়ার পাশাপাশি মাছ ও গরুর মাংসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। ফলে অনেক পরিবার এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম বাজার করতে বাধ্য হচ্ছে।
মেরাদিয়া বাজারে বাজার করতে আসা সাগর হোসেন বলেন, আগে একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কেনা যেত। এখন হিসাব করে চলতে হচ্ছে। মাছ-মাংস তো আগেই কম খাই, এখন সবজিও ইচ্ছামতো কেনা যায় না।
সবজি বিক্রেতা নাজিম উদ্দীন বলেন, অনেক সবজির মৌসুম শেষের দিকে। সরবরাহ কমে গেছে, তাই দাম বাড়ছে। পাইকারিতে বেশি কিনলে খুচরায় কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না।
আরেক বিক্রেতা শাহজালাল বলেন, দু-একটা সবজির দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু বেশিরভাগ পণ্যের দাম এখন বাড়তির দিকে।
এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও মানুষের আয় সে হারে বাড়ছে না। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে প্রতিদিনের বাজার করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে সবজি, মাছ ও মাংসের বাড়তি দামে সংসারের ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
আইও/