রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ।। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৭ জিলহজ ১৪৪৭


বিভিন্ন মাদরাসায় চামড়া সংরক্ষণের প্রশিক্ষণ ও ২০ কোটি টাকার লবণ দিবে সরকার


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

গতবছরের মতো এবারও কুরবানি সামনে রেখে চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন মাদরাসা-মসজিদ ও এতিমখানায় ২০ কোটি টাকার লবণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের তাগিদে গতবছর প্রথম এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নানান জটিলতায় সে উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হয়নি। এবারও কুরবানি সামনে রেখে এ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে এটা পুরোপুরি কার্যকর করতে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের বিনাখরচে দেওয়া হবে চামড়া সংরক্ষণের প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণের আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বিসিকের সমন্বয়ে মাদরাসা ও এতিমখানা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কসাইদের চামড়া সংরক্ষণ ও লবণ প্রয়োগের সঠিক পদ্ধতি শেখানো হবে এবং মাঠপর্যায়ে চামড়াশিল্পের দক্ষ লোকবল বৃদ্ধির প্রত্যাশায় দক্ষ কসাইদের সম্পৃক্ত করে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি এক প্রেস-ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত বছর প্রথমবারের মতো চামড়া সংগ্রহে বিভিন্ন মাদরাসায় লবণ দেওয়া হলেও এ উদ্যোগের পুরোটা কাজে আসেনি। এমন কিছু মাদরাসায় লবণ দেওয়া হয়েছিল, যেসব মাদরাসা চামড়া সংগ্রহ করে না। পরে ওইসব মাদরাসা বরাদ্দকৃত লবণ বিক্রি করে দেয়। এসব বিবেচনায় এ বছর মাদরাসা, মসজিদ ও লিল্লাহ বোর্ডিং নির্ধারণে আরও সর্তকর্তা অবলম্বণ করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেজন্য এবার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে।  

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সালমা ট্যানারির স্বত্বাধিকারী মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, সরকার লবণ বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে। মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীরা চামড়া সংগ্রহ করলেও লবণ প্রয়োগে তাদের অভিজ্ঞতা নেই। ফলে সময়মতো ও সঠিকভাবে লবণ দেওয়া হয় না, এতে চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে— চামড়া সংগ্রহের পাশাপাশি আলাদা একটি প্রশিক্ষিত দল তাৎক্ষণিক লবণ প্রয়োগ করবে। তা না হলে এই উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদরাসায় লবণ দেওয়া হলেও সিস্টেমটা ভালো হচ্ছে না। যেসব মাদরাসা বা এতিমখানায় লবণ দিচ্ছে সেখানে একটু ফলোআপ দরকার। মাদরাসা মূলত ছাত্রদের দিয়ে চামড়া সংগ্রহ করে। ছাত্রদের এই চামড়া সংগ্রহ করতে করতে রাত ৯ থেকে ১০টা পর্যন্ত বেজে যায়। ১০টার পর যখন চামড়াগুলো জড়ো হয়, তখন ওদেরকে বলে যে তোমরা এখন লবণ দাও। কিন্তু ছাত্রদের লবণ দেওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, আর তারা তখন খুব ক্লান্ত থাকে। ফলে তখন আর চামড়াতে ওইভাবে লবণ দিতে পারে না। লবণ না দেওয়ার ফলে দেখা যাচ্ছে যে সকালবেলায় তখনও লবণ পড়ে আছে, চামড়াও পড়ে আছে— এটা গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলছি। তাই মাদরাসাগুলোতে লবণ দেওয়ার জন্য আলাদা লোক রাখা প্রয়োজন।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ