বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ।। ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৬ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
শেরপুরে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচির মৃত্যু ভূমিকম্প মোকাবিলায় জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই: অ্যার্টনি জেনারেল শাপলা চত্বরের মামলায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ রাত ১টার মধ্যে ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা ‘বাবরি মসজিদ ভাঙা উচিত হয়নি’—এমন মত দেশদ্রোহিতা নয়: বোম্বে হাইকোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদ ও ইসলামি স্থাপনায় হামলা বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ হবিগঞ্জের সংঘর্ষে উদ্বেগ, রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিতের আহ্বান জমিয়তের মিরপুরে দেয়াল ধসে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি ইসলামী আন্দোলনের

সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব, ৫৫ দিনে ৩৫২ শিশুর মৃত্যু


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

হাম ও হামের উপসর্গে গত ৫৫ দিনে সারাদেশে মৃত্যু হয়েছে ৩৫২ শিশুর। সরকারি হিসেব অনুসারে গড়ে প্রতিদিন অন্তত ছয়জন করে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। তবে গত এক সপ্তাহে সেই সংখ্যার গড় দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন ১০ জনে। হামে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা কমে আসার আশ্বাস দেওয়ার মধ্যেই মৃত্যুসংখ্যা দেড়গুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ আর তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে রয়েছে রংপুর বিভাগ। গতকাল হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৯ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে এসব তথ্য।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাব সঠিক বলে ধরে নিলেও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি ঘোলাটে।

বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতাল, স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনিক রেকর্ডে পাওয়া তথ্যে সরকারি হিসাবের সঙ্গে বড় ধরনের অমিল দেখা গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসমালোচনা এড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখানো হচ্ছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এটি ইচ্ছাকৃত গোপন নয়, বরং তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এমন পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য আসতে দেরি হওয়ায় রিপোর্টে গরমিল দেখা দেয়।

উদাহরণ হিসেবে রংপুর বিভাগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো মৃত্যুর তথ্য না দিলেও স্থানীয় হাসপাতাল ও প্রশাসনিক রেকর্ডে অন্তত চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে বরিশাল ও ময়মনসিংহেও সরকারি ও স্থানীয় তথ্যের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ২৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেখানে সংখ্যা দেখিয়েছে অনেক কম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত হাম বা হাম-জাতীয় উপসর্গে ৩৫২ জনের মৃত্যু এবং ৫৪ হাজার ৬৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। সঠিক তথ্য প্রকাশ না হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে বলে মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এর পেছনে কোনো অবহেলা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

জেডএম/

 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ