বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠলো ইরানের কেশম দ্বীপ আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান

কুষ্টিয়ার ‘পীর হত্যা’ মামলায় ১৬ বছরের স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ‘পীর’ শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) আলমগীর হোসেন (১৬) নামে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। সে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা তছিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র।

পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আলমগীরকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। তার বাবা তছিকুল ইসলাম বলেন, রাতে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনার পর অনেকেই সেখানে দেখতে গিয়েছিল, আমার ছেলেও গিয়েছিল। এখন তাকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আলমগীরের খালা রোজিনা খাতুন জানান, রাতে আলমগীর ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পুলিশ মূলত তার চাচাতো ভাই শাওনকে গ্রেপ্তার করতে এসে তাকে না-পেয়ে আলমগীরকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, কথাবার্তার শব্দে আলমগীরের মা আলিয়া খাতুন ঘুম থেকে জেগে উঠে বাইরে এসে দেখেন, পুলিশ তার ছেলেকে ধরে রেখেছে। জিজ্ঞাসা করলে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হচ্ছে এবং সকালে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন থানায় গেলে তাকে হত্যা মামলার আসামি বলে অভিযুক্ত করে পুলিশ।

রোজিনা খাতুন আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন আলমগীর ঘটনাস্থলে ছিল না। সে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরে মাকে কাজে সাহায্য করছিল। পরে দরবারে হামলার খবর পেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায়। প্রকৃত অপরাধীদের অনেকে চিহ্নিত হলেও তাদের গ্রেপ্তার না-করে আমার নাবালক ভাতিজাকে আটক করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর ইসলাম বলেন, সোমবার আলমগীর নামের ১৬ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়। এখানে আমরা হামলার ঘটনার দিনের ফুটেজ পর্যালোচনা করেই তাকে গ্রেপ্তার করেছি। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পির শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে শামীম জাহাঙ্গীর মারা যান। হামলার পর দরবারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার তিন দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ