শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৬ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২২ শাওয়াল ১৪৪৭


ধর্মমন্ত্রীর সভায় বক্তব্য দেওয়ায় ইমামকে চাকরিচ্যুত করলেন জামায়াত নেতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নির্বাচনি সভায় বক্তব্য দেওয়ায় মাওলানা আব্দুর রহমান আল-মুজাফফার নামে এক ইমামকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।

গত ২৮ মার্চ জোহর নামাজের পর কোনো নোটিশ ছাড়াই ইমামকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন মসজিদের সেক্রেটারি জামায়াত নেতা ডা. আবু হানিফ। বিষয়টি নিশ্চিত করে মাওলানা আব্দুর রহমান আল মুজাফফার বলেন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নির্বাচনি সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে অগ্রীম নোটিশ ছাড়া গত ৪ ফেব্রুয়ারি এশার নামাজের সময় জামায়াত নেতা মো. সুন্দর আলী কর্তৃক চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।

তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে মসজিদ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সাময়িক ধামাচাপা দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, রমজান মাসেও ইমাম সাহেবের প্রতি জামায়াত নেতা ডা. আবু হানিফ ও সুন্দর আলী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করেন। পরবর্তী সময়ে তারা দুজন ইমাম সাহেবের প্রতি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে এলাকার সাধারণ মুসল্লিদের ভুল বুঝিয়ে গত ২৮ মার্চ রোববার জোহরের নামাজের পর বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করেন।

২০২৪ সালের জুন মাসের উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ছিলমপুর পূর্ব মধ্যপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগদান করেন মাওলানা আব্দুর রহমান আল-মুজাফফার। এছাড়াও তিনি ধর্মমন্ত্রী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান মুরাদনগর বড় মাদরাসা মহিলা শাখার সিনিয়র শিক্ষক। এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুর রহমান আল-মুজাফফার। এই জনসভার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাওলানা আব্দুর রহমান আল-মুজাফফার বলেন, দুই বছর ধরে আমি এই মসজিদে ইমামতি করে আসছি।

কখনো কারোর সাথে আমার কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। মাননীয় ধর্মমন্ত্রীর নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মসজিদের ইমামতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ও তার ছোট ভাই কাজী শাহ আরফিনকে আমি বিস্তারিত জানাই। যার কারণে আমাকে তাৎক্ষণিক বিদায় না দিয়ে গত ২৮ মার্চ রোববার এশার নামাজের পর মসজিদের সেক্রেটারি জামায়াত নেতা ডা. আবু হানিফ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন, ১ এপ্রিল এর মধ্যে আমাকে মসজিদ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যেতে। এক মাস সময় চাইলেও তিনি তা দেননি।

 

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ