২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি আলেমদের অংশগ্রহণ ছিল অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে ঘিরে ইসলামপন্থীদের নিয়ে প্রত্যাশার মাত্রাও ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু অনৈক্য ও সাংগঠনিক দুর্বলতার ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তবে তৃণমূলের রাজনীতিতে ইসলামপন্থীরা এগিয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বেশ কিছু আসনে আলেমদের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনজন এমপি হয়েছেন। ছয়জন লক্ষাধিক ভোট পেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
আরও পড়ুন: কওমি সিলেবাসে ‘সিরাত’ অবহেলার শিকার হওয়া বেদনাদায়ক: মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
ময়মনসিংহ–২
মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ। ময়মনসিংহ–২ আসনে ১,৪৬,২০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন। এই জয়ের মাধ্যমে কওমি অঙ্গনের রাজনৈতিক শক্তি ও খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক প্রভাব সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
বরগুনা–১
মাওলানা অলিউল্লাহ। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র তিনিই নির্বাচিত হয়েছেন। মাওলানা অলি উল্লাহ বরগুনা–১ আসনে ১,৪০,২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার এই বিজয় ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতেও এর প্রভাব থাকবে।
নীলফামারী–১
মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব। তিনি নীলফামারী-১ আসনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন। তিনি বিজয়ী হতে না পারলেও ১,১৮,১৬০ ভোট পেয়েছেন। তার এই ভোটপ্রাপ্তি স্থানীয় রাজনীতিতে তার শক্ত অবস্থান নির্দেশ করে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নির্বাচনি জোট বা আঞ্চলিক রাজনীতিতে তার প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সিরাজগঞ্জ–৩
মাওলানা আব্দুর রউফ সরকার। সিরাজগঞ্জ–৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে ১,১৬,৮০২ ভোট পেয়েছেন। যদিও তিনি নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি, তবু লক্ষাধিক ভোট তার শক্তিশালী জনসমর্থনের প্রমাণ বহন করে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।
কিশোরগঞ্জ–১
মাওলানা হেদায়েতউল্লাহ হাদি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব। সাবেক ছাত্রনেতা। কিশোরগঞ্জ–১ আসনে ১,০১,১৩২ ভোট পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ছিলেন নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পারলেও তার এই ভোটপ্রাপ্তি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন। তিনি ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হলে জয়লাভের সম্ভবনা অনেক বেশি ছিল।
গাজীপুর–৩
মাওলানা এহসানুল হক। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য। ঢাকা কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল প্রফেসর নূরুল হক মিয়া এর সন্তান। আল্লামা মামুনুল হকের ভাগ্নে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছেন। এই তরুণ আলেম গাজীপুর-৩ থেকে নির্বাচন করে ১,০০,৫৩৯ ভোট পেয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক পরিচিতি ও বিগত আমলে জুলুম নির্যাতন সহ্য করার ফলে অল্প দিনেই তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আলেম প্রার্থীরা ছয়টি আসনে লক্ষাধিক ভোট অর্জনের মাধ্যমে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। দুটি আসনে বিজয়ের পাশাপাশি অন্যান্য আসনেও উল্লেখযোগ্য ভোটপ্রাপ্তি ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের সম্ভাব্য প্রভাবের দিকটি তুলে ধরে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংগঠিত রাজনৈতিক কৌশল ও জনসম্পৃক্ততা বজায় রাখতে পারলে আগামী নির্বাচনে এই ধারা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
জেডএম/