বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ ।। ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার ৬৬.৩%, সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে ৫৪.৫% কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে খেলাফত মজলিসের শোক ‘মাদরাসা ছাত্রদের ওপর পুলিশি হামলা বিগত ফ্যাসিবাদী আচরণ স্মরণ করিয়ে দেয়’ দারুল আরকামের ছাত্রদের লাঠিচার্জের ঘটনায় ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি মরুর বুকে সত্যবাদী কিশোর ‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’—রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমামের অভিনন্দন ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৭১ গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ৬ টানা বৃষ্টিতে দারুল উলুম দেওবন্দের ‘বাবুজ জাহির’ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত ১২ রবিউল আউয়াল উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ

ভালো নেই শহীদ মুগ্ধর বাবা, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্নিগ্ধ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

উত্তরার আজমপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান মেজর হার্ট অ্যাটাক করেছেন। আগামীকাল সোমবার বাবার অপারেশনের বিষয়টি উল্লেখ করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন মুগ্ধ’র ভাই মীর স্নিগ্ধ।

রোববার রাত ৮টায় নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে স্নিগ্ধ লিখেছেন, আমাদের আব্বু হঠাৎ করেই একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। এতদিন পর্যবেক্ষণের পর এনজিওগ্রামে দেখা গেছে, তার হৃদয়ে অসংখ্য ব্লক ধরা পড়েছে। এত বছরেও আব্বুকে কখনো এত বড় অসুস্থতায় পড়তে দেখিনি। ছোটখাটো অসুখ হলে তিনি নিজেই ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে যেতেন, আমাদের জানাতেনও না।

আমাদের সবার মাঝে আব্বুই সবচেয়ে সাহসী মানুষ। সবসময় আমাদের সাহসী হতে এবং শক্ত থাকতে শিখিয়েছেন। কিন্তু আগামীকাল আব্বুর অপারেশন-এই কথাটা ভাবতেই মনটা ভারী হয়ে যাচ্ছে।

মুগ্ধকে হারানোর পর থেকেই আব্বু ধীরে ধীরে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলেন। বাইরে থেকে হয়তো বোঝা যেত না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছিলেন। আর আজ সেই মানুষটিই হার্ট অ্যাটাকের রোগী। আপনারা যে মানবিক মুগ্ধকে দেখেছেন, সে ছিল পুরোপুরি আব্বুরই প্রতিচ্ছবি।

আমার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পেছনেও আব্বুর হাতটাই সবচেয়ে বড়। আমার বাবা বিএনপি দলটাকে অনেক বিশ্বাস করেন। বিএনপির ত্যাগী কর্মী বলতে যাদের বোঝায়, আব্বু তাদের মধ্যে একজন। অনেকেই জানেন না, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ৯০-এর দশকে। কিন্তু আমরা ৩ ভাই সবসময় অরাজনৈতিক ছিলাম। তার জন্যই আমার প্রতি কঠোর নির্দেশ ছিল, রাজনীতি করলে এই দল থেকেই করতে হবে।

জানি না, এই দলটা একজন শহীদের পিতার বিশ্বাস রাখতে পারবে কি না। ডাক্তার বলেছেন, কালকের অপারেশন করতে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবার জীবনের সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ যা করেন তার মাঝেই কোনো না কোনো কল্যাণ লুকিয়ে থাকে। একজন বীরের বাবার জন্য আপনাদের সবার কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া কামনা করছি।

প্রসঙ্গত, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ছিলেন ২০২৪ সালের বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী এবং শিক্ষার্থী। তিনি ১৮ জুলাই উত্তরার আজমপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। মুগ্ধর জন্ম ঢাকার উত্তরায় এক মুসলিম পরিবারে, যদিও তার আদি নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইলে। তার বাবার নাম মীর মুস্তাফিজুর রহমান এবং জমজ ভাইয়ের নাম মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

মুগ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি ঢাকার বিইউপি (BUP) থেকে এমবিএ করছিলেন।পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতেন। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে পানি বিতরণের সময় তার বলা পানি লাগবে কারও, পানি? বাক্যটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ