সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন ‘পবিত্র ভূমিতে হামলা মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের’ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে জামিয়া ইমদাদিয়ার শায়খুল হাদিস চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু মঙ্গলবার বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশ ও জনগণের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী গণরায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: আমিরে মজলিস ‘হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে হেফাজত করো’ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণহানি, জমিয়তের শোক ও নিন্দা মালয়েশিয়ায় কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরাকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য রক্ষায় আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, দীনি শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষা এবং অপপ্রচার মোকাবিলায় আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মীয় নেতারা। তাঁরা বলেছেন, দেশের ইতিহাস, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কওমি মাদরাসার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ শিক্ষাব্যবস্থার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক গঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত ‘ষড়যন্ত্রের কবলে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা: কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব ও কর্তব্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি ওহিভিত্তিক শিক্ষা। এ শিক্ষার মূল লক্ষ্য মানুষকে মানবতা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তোলা। জাগতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না; তবে দ্বীনি শিক্ষার ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণা মোকাবিলায় আলেমদের সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদ্রাসার পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মাদ্রাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন আল্লামা মহিউদ্দিন রব্বানী। তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে। বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

আলেমদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনে আলেমদের ভূমিকা রয়েছে। ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাঁদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি দেশের স্বার্থে আলেমদের ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যে আলোচনাধীন একটি হেবা আইন নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। বলেন, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের আইন পাস হয়ে থাকলে তা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেকাব পরা নিয়ে বিতর্ক, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি।

সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষা ও ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থেও আলেমদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোরআন-সুন্নাহকে প্রাধান্য দিয়ে জাগতিক শিক্ষার সমন্বয় সম্ভব হলেও দীনি শিক্ষার স্বকীয়তা বিসর্জন দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার অবদান শুধু ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান কিংবা শিক্ষার্থীদের ঈমান-আকিদা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতিম, অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রেও এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বেসরকারি মাদরাসাগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আলেমদের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের তারবিয়াত ও আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু সনদ বা পদবি অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শিক উন্নয়নকেও প্রাধান্য দিতে হবে।

আলোচনা সভায় দেশের বিভিন্ন মাদরাসার আলেম ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৬০০ মাদরাসাকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ