|| আমীর ইবনে আহমদ ||
ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জস্থ উম্মুল ক্বুরা মহিলা মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সাইফুল বারীকে গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার নানা নাটকীয়তার পর ধর্ষণের অপবাদ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং পরের দিন মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারো কারো ইন্ধনে কতিপয় দুষ্কৃতকারী মাদরাসায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরিচালককে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
এই ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে ইত্তেফাকুল উলাম বৃহত্তর মোমেনশাহীর একটি টিম উম্মুল ক্বুরা মাদরাসায় যায়। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের করে। মাদরাসার ছাত্রী, শিক্ষিকা, এলাকাবাসী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাওলানা সাইফুল বারী অত্যন্ত ভালো মানুষ। ইতিপূর্বে তার চারিত্রিক স্খলনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একজন ছাত্রীকে শাসন করার ক্ষেত্রে কিছুটা অসতর্ক আচরণ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয় এবং স্বার্থান্বেষী মহল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই ঘটনাকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
ঘটনার পর ছাত্রীর অভিভাবকদের একজন মাওলানাকে একটি রুমে জিম্মি করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপরাধের মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করে এবং মীমাংসার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যাক্তি, নামধারী কিছু গণমাধ্যম কর্মী এবং বিভিন্ন সংস্থার দালাল হিসেবে পরিচিত কয়েকজন মিলে এই ঘটনার সমঝোতা করে দেয়ার বিনিময়ে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে মাওলানার পরিবারের নিকট। তাদের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না করায় এই মামলা দায়ের করা হয়।
মাওলানা সাইফুল বারীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে এর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা তথ্য কেউ উপস্থাপন করতে পারেনি। যতদূর জানা গেছে, মামলার বাদী ও সাক্ষী ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। অন্যের কাছে শোনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এই ঘটনার পেছনে মাদরাসা দখল-কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায় এবং স্থানীয় ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ইন্ধন যুগিয়েছে।
এলাকাবাসী, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ ইত্তেফাকুল উলামা টিমের নিকট শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষার স্বার্থে দ্রুত মাদরাসা খোলে দেওয়ার পাশাপাশি পরিচালক মাওলানা সাইফুল বারীর মুক্তির জোর দাবি জানান।
ইত্তেফাকের তত্ত্বাবধানে খোলে দেওয়া হচ্ছে সেই মাদরাসা:
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ইত্তেফাকুল উলামার তত্ত্বাবধানে উম্মুল ক্বুরা মহিলা মাদরাসা খোলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে।
পরিচালক মাওলানা সাইফুল বারীর মুক্তি পর্যন্ত এই কমিটি মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। মুক্তির পর আলোচনা সাপেক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
একটি অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা মসজিদ, মাদরাসা, ইমাম, আলেম- উলামার সম্মানহানির জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছেন, যারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন, পরিকল্পিত তথ্যসন্ত্রাস চালাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না।
উম্মুল ক্বুরা মহিলা মাদরাসার ঘটনায় যেসব নামধারী গণমাধ্যম কর্মী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্টিভিস্ট যারা কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়া মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট, প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরাধীর পরিচয় একটাই সে অপরাধী। অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু বিনাঅপরাধে কোনো নির্দোষ মানুষকে অপরাধী বানাতে চাইলে তা প্রতিহত করতে হবে। আইনের আশ্রয় নিতে হবে। এবিষয়ে দায়িত্বশীলদেরকে আরো সোচ্চার ও সচেতন হতে হবে।
(উল্লেখ্য, এই ঘটনার শুরু থেকেই ইত্তেফাক নেতৃবৃন্দ অবহিত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্রশাসনিক সহায়তারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষের একটি অংশ বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাচ্ছে জানালে নেতৃবৃন্দ এটি তাদের হাতে ছেড়ে দেন। এর পরের ঘটনা সবারই জানা।
কোনো বিষয়ে সঠিক তথ্য না জেনে মন্তব্য করা বা অহেতুক দোষারোপের কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় এই দায়িত্বহীন আচরণ আমাদের নিজেদের মাঝেই আস্থার সংকট তৈরি করবে।)
লেখক: মাদরাসা শিক্ষক, লেখক ও সংগঠক
আইও/