শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ ।। ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
নাটোরে অগ্নিকাণ্ডে মাদরাসা পুড়ে ছাই, অক্ষত কুরআনের ২৫টি কপি খুলনায় স্কুলছাত্রী গুলিবিদ্ধ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণ করেন এএসপি ফজলু: ডিবি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাল সৌদি সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৪৪  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে সুনামগঞ্জে খেলাফত মজলিসের আলোচনা সভা ধর্মান্তরের ঝুঁকি মোকাবিলায় মক্তবব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের বগুড়ায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮ জুমার খুতবায় পাকিস্তানি স্কলার আলেমের হার্ট অ্যাটাক যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়: গাজী আতাউর রহমান

৫৫টি কলমে ৮ মাসে পুরো কোরআন লিখলেন সুরাইয়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানোর বদলে কলম হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিদিন অল্প অল্প করে লিখেছেন পবিত্র কোরআনের আয়াত। টানা আট মাসের সেই অধ্যবসায়ের ফল—নিজ হাতে সম্পূর্ণ ৩০ পারা পবিত্র কোরআন লিখে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার লাকসামের শিক্ষার্থী সুরাইয়া জান্নাত।

মাত্র ১৮ বছর বয়সী সুরাইয়া লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামে। তিনি সৌদি আরবপ্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির কন্যা।

সুরাইয়ার হাতে লেখা ৬১১ পৃষ্ঠার কোরআন এতটাই নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় এটি ছাপা নাকি হাতে লেখা—তা বোঝা কঠিন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি কোরআন লেখা শুরু করে নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে প্রতিদিন সময় বের করে তিনি কাজটি এগিয়ে নেন। প্রায় আট মাসের নিরলস পরিশ্রমে সম্পন্ন হয় পুরো কোরআন। এ কাজে তাঁর ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৫৫টি কলম।

নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের বিষয়ে সুরাইয়া জানান, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় তিনি এই কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন লেখার আগে অজু করতেন, দরূদ শরিফ পাঠ করতেন এবং এরপর কোরআন লেখা শুরু করতেন।

তিনি বলেন, "অন্যদের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করে এমন একটি কাজ করতে চেয়েছি, যা দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় ক্ষেত্রেই উপকারী হবে। সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে কষ্ট করে কোরআন সংরক্ষণ করেছেন, তাঁদের জীবন থেকেই আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি।"

সুরাইয়া জানান, পুরো কোরআন লেখার পথে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন তাঁর ছোট ভাই নাহিদ হাসান, যিনি আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভবিষ্যতে তিনি হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সহিহ বুখারিও নিজ হাতে লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

মেয়ের এই অর্জনে গর্বিত মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ছোটবেলা থেকেই সুরাইয়ার আরবি ভাষা ও সুন্দর হাতের লেখার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। তাঁর এই ব্যতিক্রমী সাফল্যে আনন্দিত হয়ে সৌদি আরবপ্রবাসী বাবা নুর হোসেন লিটন মেয়েকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।

সুরাইয়ার অসাধারণ এই কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে তাঁকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, এত অল্প বয়সে নিজ হাতে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন লিখে সুরাইয়া এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর ও পরিপাটি। ভবিষ্যতে তাঁর পড়াশোনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

অধ্যবসায়, নিষ্ঠা এবং কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসার এই অনন্য উদাহরণ ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ