বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ ।। ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৮ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঢাকা মহানগরীতে দিনের বেলায় ২ শিফটে বর্জ্য পরিষ্কারের নির্দেশ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কর্মসূচি বেফাকের ১২২ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল দ্বীনি চেতনা পরিষদ মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা: বাড়ছে তেলের দাম অবহেলায় মায়ের মৃত্যু, শাস্তির মুখে সেই যুগ্ম সচিব কিশোরগঞ্জে খেলাফত ছাত্র মজলিসে যোগ দিলেন ৩৬ শিক্ষার্থী শাহজালালে ১৫০ হাজির লাগেজ কাটার অভিযোগ, তদন্তে কর্তৃপক্ষ রুমিন ফারহানার মন্তব্যের নিন্দা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে: খেলাফত মজলিস গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সর্বপ্রথম রাজপথে নেমেছি আমরা: আমিরে মজলিস

ঢাকার ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদ মুসা খান মসজিদ। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই স্থাপনাটি।

মসজিদের সামনে ঝুলানো চোখে সাইনবোর্ডে মসজিদটির পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকার পশ্চিমাংশ বাগে-মুসা খান নামে পরিচিত।

মুসা খান বারো ভুইয়া খ্যাত ঈসাখানের পুত্র। মসজিদটি তাহার দ্বারা নির্মিত বলিয়া জানা যায়। কিন্তু স্থাপত্যশিল্পে ইহা শায়েস্তা খানি রীতিতে নির্মিত এবং সম্ভবত মুসা খানের পুত্র মনোয়ার খান কর্তৃক শায়েস্তা খানের আমলে নির্মিত। দেয়ালের গাত্রে শিলালিপি না থাকলেও সপ্তদশ/অষ্টাদশ শতকে নির্মিত এ ধরনের বহু মসজিদের অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান। স্থাপত্যিক দৃষ্টিতে ইহা খাজা শাহবাজ মসজিদের ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দের অনুরূপ। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মুসা খানের কবর আছে। ’

ঐতিহাসিকদের মতে, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল যেখানে অবস্থিত সেখানে মুসা খানের নির্মিত অসংখ্য দালানকোঠা ছিল। এসব স্থাপত্য নির্মাণকালে তিনি এখানে একটি মসজিদও নির্মাণ করেছিলেন। মুসা খানের এই সমগ্র এলাকাটিকে তখন বলা হতো ‘বাগ-ই-মুসা’ বা মুসার বাগান।

জানা যায়, বর্তমান লালবাগ, সদরঘাট, পুরান ঢাকা, কার্জন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও শাহবাগ তথা সমগ্র পুরান ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল নিয়ে এই ‘বাগ-ই-মুসা’ গঠিত হয়েছিল । মুসা খানের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছিল ‘বাগ-ই-মুসা’। তখনকার সময়ে এই সমগ্র এলাকাটি মুসা খানের ব্যক্তিগত জমি হিসেবেই বিবেচিত হতো।

মুসা খান মসজিদটির নির্মাণ-কৌশল বিবেচনায় মসজিদটির সঙ্গে রমনার খাজা শাহবাজের মসজিদের সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

মাটি থেকে বেশ খানিকটা উঁচুতে অবস্থিত মসজিদটি । সমতল থেকে ৩.০৫ মিটার উঁচু খিলান ছাদবিশিষ্ট ভিতের ওপর স্থাপিত মসজিদটি বাইরের দিকে উত্তর-দক্ষিণে এর পরিমাপ ১৭.৬৪ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪.০২ মিটার। এ উঁচু ভিতের তলদেশে কয়েক সারি কক্ষ রয়েছে; বর্তমানে যা অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত। এসব কক্ষে দেয়ালের মাঝখানে একটি করে বুকশেলফ আছে। কক্ষগুলোর গঠনশৈলী প্রমাণ করে, এখানে একটি মাদরাসা ছিল।

ইতিহাস গবেষক মিন্টু আলী বিশ্বাস মনে করেন, মোগল আমলের অন্যান্য মসজিদের মতো একসময় এখানেও ধর্মীয় শিক্ষার কার্যক্রম চালু ছিল। ।

এই ভিতের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের সিঁড়ি বেয়েই ওপরের মূল অংশে উঠতে হয়। পশ্চিমাংশে মসজিদকাঠামো, পূর্বাংশে খালি বারান্দা এবং বারান্দার দক্ষিণাংশে অজুখানা।

পূর্ব দিকের তিনটি দরজার মাঝের দরজাটি নান্দনিক কারুকার্য শোভিত হয়ে প্রধান দরজার প্রতিনিধিত্ব করছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালেও রয়েছে একটি করে দরজা, যা বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়। মসজিদের ওপরের অংশে তিনটি গম্বুজ অষ্ট কোণাকার ড্রামের ওপর স্থাপিত; মধ্যবর্তী গম্বুজটি তুলনামূলক বড়। গম্বুজগুলোর ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ খালি হওয়ায় মসজিদের ছাদ অনেক উঁচু ও সুদৃশ্য মনে হয়। মসজিদের ভেতরে সামনের দেয়ালে তিনটি খিলানবিশিষ্ট অর্ধ অষ্টভুজাকৃতির মিহরাব। মধ্যখানের মিহরাবটি তুলনামূলক বড় এবং সেটিতেই ইমাম দাঁড়িয়ে ইমামতি করেন।

মসজিদের উত্তর পাশে ভিতের সঙ্গে লাগোয়া একটি কক্ষে নারীদের জন্য নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থা আছে।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ