|| শরীফ মুহাম্মদ ||
গণতন্ত্রের মতো একটি বাতিল তত্ত্বের সাফাই গাওয়ার প্রয়োজন নাই। কিন্তু গণতন্ত্রের সূত্র ধরে নির্বাচন এবং নির্বাচনে গত ৫০-৬০ বছর আগের উপমহাদেশের সবচেয়ে বরিত আলেমদের অংশগ্রহণ, এর সব কিছুকেই নিষিদ্ধ এবং অত্যন্ত অপছন্দনীয় হিসেবে দেখা ও উপস্থাপন করা-এটা সম্ভবত ৩০/৩৫ অনূর্ধ্ব বয়সের চিন্তাবিদ তরুণেরাই নির্দ্বিধায় করে ফেলছে।
প্রেক্ষাপট, পটভূমি এবং 'সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা', 'প্রচলিত ও অনুমোদিত সিস্টেমের মধ্যেই' দ্বীন প্রতিষ্ঠা কিংবা 'দ্বীন প্রতিষ্ঠার নামে দ্বীনের বিরুদ্ধের শক্তির সামনে কিছুটা প্রতিরোধ দাঁড় করানোর সংগ্রাম'-এইসব বিষয় সামনে নিয়ে চিন্তা করলে এভাবে কঠোর ভাষায় কথা বলা নিঃসন্দেহে কঠিন হতো।
গণতন্ত্রের আদ্যপান্ত তত্ত্বগত অবস্থানের চেয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা একটি অনুমোদিত প্রক্রিয়া পরিবর্তনের, এটাই তাঁদের কাছে মুখ্য ছিল। তখন সরাসরি অন্য 'কোনো রকম প্রয়াস ও চর্চা'র সুযোগ ও নজির ছিলও না। তাঁরা তাঁদের মূল লক্ষ্যের অভিমুখে পথচলার জন্য এই প্রক্রিয়াটিকে ব্যবহার করেছিলেন। তত্ত্বগতভাবে 'গণতন্ত্র' এবং প্রক্রিয়াগতভাবে 'নির্বাচন' তাদের সেরা পছন্দ বা বাছাই ছিল এমন কিছু তো না।
কিন্তু এ যুগে বসে দক্ষ সার্জনের মতো আমরা এখন তাদের কাটাছেঁড়া করছি। এবং আগের বড়দের কে কতটুকু ভুল বা ব্যর্থ ছিলেন আঙুল তাক করে করে দেখিয়ে দিচ্ছি! এটা ভুল প্রক্রিয়া; এ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করতে বসলে ইতিহাসের ধাপে ধাপে অনেক বরিত মহান মানুষকে বাজেভাবে কাটাছেঁড়া করতে হবে, যা সম্পূর্ণই অনুচিত এবং অন্যায্য।
[ভুল মূল্যায়নের একটি নমুনা। শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী রহ রাজনৈতিক সংগ্রাম করলেন প্রত্যক্ষ জেহাদে ঝাঁপিয়ে পড়লেন না কেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে?/হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহ প্রত্যক্ষ জেহাদ কিংবা রাজনৈতিক সংগ্রাম কোনটাই করলেন না কেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে?/]
আরেকটি দিক হলো, ৫০, ৬০, ৭০, ৮০ এমনকি ৯০- এর দশক পর্যন্ত উপমহাদেশীয় (হতে পারে বিশ্ব পরিসরেও) আলেম নেতৃবৃন্দ এবং ইসলামের নেতৃত্বশীল মানুষদের সামনে প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল সমাজতন্ত্র, সোশালিজম, কমিউনিজম। বাম শক্তিগুলোর একটা সরব স্বপ্নপ্রবণ ও উত্থানমুখর পর্ব ছিল ওই সময়গুলোতে। এবং পুঁজিবাদের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ধর্ম ও ধর্মীয় শক্তিগুলো ছিল তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ।
এই বাস্তবতার সামনে ময়দানে আকাবির আলেমদের কাজ করতে হয়েছে। পুঁজিবাদ গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র সবকটির বà