শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ ।। ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৯ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
‘লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ব্যতীত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’ বর্তমান সমাজে বিয়েকে ক্রমেই কঠিন করে তোলা হচ্ছে কালভার্ট নির্মাণকালে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু আগস্টের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ শুরু করবে সরকার: ববি হাজ্জাজ আগামী ৭ জুন রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ পুলিশ কর্মকর্তা হজ-পরবর্তী জীবনে পরিবর্তন না এলে হজের শিক্ষা অপূর্ণ: শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্নে কোনো আপস করা উচিত নয়’ ৩ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

প্রতি রাতে তাহাজ্জুদের পর ২ রাকাত তাওবা ও শুকরান সালাত আদায় করি : শামীম ওসমান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আল্লাহ এবং আল্লাহর রসুলকে (স.) পেতে হলে কিছু সোর্স লাগে। সব বান্দা যদি সমান হতো তাহলে তো দুনিয়া বেহেশত হয়ে যেত, কিন্তু সব বান্দাতো সমান না। কিছু পরশ পাথর লাগে। যে পাথরের ঘষায় আমরা নিজেদের পবিত্র করতে পারি। ইসলামকে জঙ্গিবাদ বানিয়ে দেওয়া হয়, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। এমনকি কোনো ধর্মেই নেই। ইসলাম ধর্ম শক্তির ধর্ম না, শান্তির ধর্ম।

আজ শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে শহরের শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, কোনো ধর্মই খারাপ কিছু সমর্থন করে না। ইসলাম হল শান্তির ধর্ম। আর শান্তির বিধান হল কোরআন। আমি কোরআন পড়ি রোজ দুবেলা। কোরআনে স্পষ্ট লেখা আছে, কেউ যদি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করল, তাহলে তিনি সমস্ত মানুষকে হত্যা করল। আর কেউ যদি একজন মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জীবন রক্ষা করল। মানুষ বলা হয়েছে, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান বলা হয়নি। বলা হয়েছে যেই এলাকায় মুসলিম বেশি থাকবে, সেই এলাকায় যদি কোনো বিধর্মী থাকে তবে তাদের দেখে রাখতে।

তিনি আরও বলেন, বেশি কিছু লাগে না, শুধু আল্লাহর নবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর বিদায় হজের ভাষণটিই যথেষ্ট। অল্প সময়ের সেই ভাষণে সাড়া পৃথিবীর সমস্ত সমস্যার সমাধান তিনি দিয়ে দিয়েছেন। সাদা আর কালার (বর্ণবাদ) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কেউ কারও ওপর প্রভুত্ব করতে পারবে না, নারী ও পুরুষে কোনো পার্থক্য নেই। নারীর পুরুষের ওপর যেমন অধিকার আছে, তেমন পুরুষের ওপর নারীর অধিকার আছে। শ্রমিকের মাথার ঘাম পায়ে পড়ার আগেই তার মূল্য পরিশোধ করো, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে শেষ হয়ে যাবে। এ রকম বেশ কিছু পয়েন্ট তিনি উল্লেখ করেছেন।

উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া চেয়ে শামীম ওসমান বলেন, পৃথিবীতে একটা সত্য সকলের সঙ্গেই ঘটবে, সেটা হল মৃত্যু। আপনাকে আমাকে একদিন মরতে হবে ভাই, মরতে হবেই হবে। ওই কবর খোঁড়া হবে, মাটি চাপা দেওয়া হবে। সবাই বলবে দ্রুত মাটি চাপা দেন এবং খুব দ্রুত মাটি চাপা দেওয়া হবে। জবাব কী দিব? আপনি যদি আপনার জবাব নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন তো বেশ। আমি আমার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করতেছি। আমি প্রতি রাতে তাহাজ্জুদের সালাতের পর দুই রাকাত শুকরান সালাত আদায় করি, কারণ আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। জেনে না জেনে করা পাপের জন্য দুই রাকাত তওবার সালাতও আদায় করি। কেন, কারণ সকাল বেলায় ঘুম থেকে আমি নাও উঠতে পারি।

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম শক্তির ধর্ম না, শান্তির ধর্ম। আমার আচার-আচরণ ও চাল-চলনে সন্তুষ্ট হয়ে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে, গায়ের জোড়ে না। কিন্তু আমরা যেন কেন ধর্মকে নষ্ট করে ফেলছি। ২০০১ এর পরে হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম, দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতাম। পকেটে পয়সাকড়ি নেই। তবে যাদের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম তাদের প্রতি আমার কোনো আক্ষেপ নেই। বরং তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। তাদের জন্যই আমার জীবন বদলে গেছে। কদিন গাড়িতে করে যাচ্চিলাম, জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার সাথে কথা হচ্ছিল ফোনে, অনেক উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলছিলাম। আপা আমাকে বললেন, তুমি কি হতাশ হয়ে গেছো? হতাশ হলে নবী হজরত মোহাম্মদ (স.) এর জীবনী পড়। আল্লাহর রসুলকে যদি দুনিয়াতে এত কষ্ট করতে হয়, তুমি আর আমি কে? সেদিনের সেই কথায় জীবন বদলে গেছে।

এ সময় সকলের কাছে জোড় হাতে ক্ষমা চান শামীম ওসমান। তিনি বলেন, আমার কারণে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আজকে আছি কাল নাও বেঁচে থাকতে পারি। আমি কাল মারা গেলে হয়তো আমার ছেলে বা ভাই আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইবে। তার চেয়ে নিজের মাপ নিজে চাওয়া ভালো। আমি মানুষ তাই আমার ভুল হতেই পারে। তাই আপনাদের সকলের নিকট ক্ষমা চাই। আপনারা আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দেবেন।

কেএল/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ