রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ সৌদিতে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার প্রবাসী বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা পেলেন কবি মুনীরুল ইসলাম  জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ১৭ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ, পাঁচ বছরে হাফেজ হলেন ফিনল্যান্ডের তরুণ

ইসরায়েলি বাহিনীতে বিদ্রোহ, ঘাঁটি ছেড়ে পালাল শত শত সেনা


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান শেষে ঘাঁটিতে ফিরেই বিদ্রোহের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তীব্র বিরোধ ও বাগবিতণ্ডার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) অভিজাত গিভাতি ব্রিগেডের সাবার ব্যাটালিয়নের শত শত সেনাসদস্য ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা। ঘটনাটি সদে তেইমান ঘাঁটির। এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত প্রধান সামরিক ঘাঁটিটি গাজার ফিলিস্তিনিদের বন্দি ও নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত।    

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাটালিয়নের সিনিয়র কমান্ডাররা সৈন্যদের ব্যারাক ও কোম্পানিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রথাগত প্রতীক, চিহ্ন ও ঐতিহ্যবাহী পতাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস ও অপসারণের নির্দেশ দিলে এই শৃঙ্খলাভঙ্গের সূত্রপাত ঘটে। সাধারণ সেনাসদস্যদের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ সত্ত্বেও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার একতরফাভাবে প্রতীকগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।   

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যাটালিয়নের এক সদস্য ওয়ালাকে বলেন, বিবাদের একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একজন পাঁচ কেজির একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে সেনাদের সংরক্ষিত প্রথাগত প্রতীকগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।

সংবাদমাধ্যমে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ক্ষুব্ধ সেনারা অফিসার, শীর্ষ কমান্ড স্টাফদের বিরুদ্ধে অশালীন ও অপমানজনক স্লোগান দিতে দিতে দলবেঁধে ঘাঁটি ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে কয়েক ডজন সেনা ঘাঁটি ছাড়লেও একপর্যায়ে পুরো ব্যাটালিয়ন চত্বর যোদ্ধা শূন্য হয়ে পড়ে। সেখানে কেবল কমান্ডাররাই অবস্থান করছিলেন।

ইসরায়েলি সেনারা ঘাঁটি ছেড়ে পালানোর সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা বিদ্রুপাত্মক স্লোগান দিতে থাকেন। ‘সব অফিসার জাহান্নামে যাক’ বলেও স্লোগান দেন কেউ কেউ।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গিভাতি ব্রিগেড সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে একটি দীর্ঘ ও জটিল সামরিক অভিযান শেষ করে ঘাঁটিতে ফিরেছিল। বিউফোর্ট রিজ ও বিন্ট জাবালসহ একাধিক রণাঙ্গনে অভিযানের জন্য সেনাসদর থেকে তাদের প্রশংসাও করা হয়েছিল। অভিযান শেষে জেনারেল স্টাফ পুরো বাহিনীকে নতুন করে সাজানো এবং তাদের একাংশকে অন্যান্য রণাঙ্গনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে ব্রিগেডটির বিরোধীদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কমান্ড স্টাফরা ব্যাটালিয়নে তথাকথিত ‘প্রবীণ ও তরুণ’ সেনাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, অনানুষ্ঠানিক চিহ্নগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। কমান্ডাররা প্রতীক ও পতাকা নামিয়ে ফেলার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, একটি যুদ্ধ ব্যাটালিয়নের বেশ কিছু সেনাসদস্য তাদের কমান্ডারদের পূর্বানুমতি ছাড়াই ঘাঁটি ত্যাগ করেছেন। ব্যাটালিয়নের অনানুষ্ঠানিক ‘তরুণ ও প্রবীণ’ প্রথা সম্পর্কিত অপ্রচলিত চিহ্নগুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটি বর্তমানে সেনা কমান্ডারদের দ্বারা উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এই ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনোভাবেই সামরিক বাহিনীর মূল্যবোধ ও সেনাসদস্যদের পেশাদার আচরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ