সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘আইন প্রণয়ন ও সংশোধনে ইসলামি মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিতে হবে’ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সরকারের অসহায়ত্ব দৃশ্যমান: ইসলামী আন্দোলন সিলেটে হাম উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ও এনসিটি ইজারা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ আসল বিজয় ‘মঙ্গলবার রাত থেকেই গ্যাস বিদ্যুতের সংকট দূর হয়ে আগের অবস্থায় ফিরবে’  মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলার রায় কাল হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারে হামলা থামাতে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের অনুরোধ তামিলনাড়ুতে মুসলিম ছাত্রীদের শিক্ষার খরচ দেবে থালাপতি বিজয়ের সরকার

সাইয়েদ কুতুব ও মওদুদির বই পাঠক্রম থেকে বাদ দিয়েছে আলীগড় ইউনিভার্সিটি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফাইজুল্লাহ মাহফুজ

মোদি সরকারের নির্দেশে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের প্রথম ধাপে দুইজনের বই পাঠক্রম থেকে সরিয়ে দিয়েছে। হিন্দু ব্যক্তিত্বদের পক্ষ থেকে ২৭ জুলাই মোদি সরকারের নামে চিঠিতে লিখিত নির্দেশনা খুবই অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর করেছে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়।

গত বুধবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিলেবাস থেকে এই দুই স্কলারের বই বাদ দেওয়া উচিত বলে একটি লিখিত দাবি ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কট্টর সমর্থকদের। তার কট্টর হিন্দুত্ববাদী সমর্থকদের অনুরোধে তিনি উপাচার্যদের নির্দেশ দেন। যা আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাল বিলম্ব না করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন ও তিনি সফল হন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন উপাচার্যও। তবে, সরকারি নির্দেশনা মানতে গিয়ে শিক্ষকদের সামনে দুই লেখকের ধারণা নিয়ে হিন্দু উগ্রপন্থীদের আপত্তির জবাবও দেন তিনি।

কিন্তু, উপাচার্য এসব উত্তরের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও ওই দুই পণ্ডিতের বই খারিজ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষকরাও এ আদেশ মেনে নেন।

মুসলমানরা ভারতে বৃহত্তম সংখ্যালঘু ও তাদের জনসংখ্যা ২২ কোটিরও বেশি। তবে তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সাধারণত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠদের কাছে থাকে। তাই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ড. শফি কাদওয়াই বলেছেন যে, পরিস্থিতি অনেক পরিবর্তন গেছে।

আগে যে জিনিসগুলি শেখানো যেত, তা এখন শেখানো যাবে না। এটা মনে রাখতে হবে যে, উভয়েই ধর্মীয় জ্ঞান এ বিজ্ঞ। তাফসিরসহ আধুনিক ও প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাদের বেশ পান্ডিত্য রয়েছে। তারা উভয়েই ইসলামি আকিদা, ইবাদত, সমাজ, রাজনীতি, গণতন্ত্র- রাষ্ট্রসহ অর্থনীতি বিষয়ে অনেক বই লিখেছেন। তাদের বই থেকে হাজার হাজার অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেছে। যদিও মওদুদির আকিদা বিষয়ে আলেমদের মতনৈক্য রয়েছে, বিতর্ক রয়েছে। তবে তিনি সাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত ছিলেন।

আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের উপর বুধবারের ক্র্যাকডাউনকে মোদী সরকারের নতুন মুসলিম নাগরিকত্ব আইনের চাপের সাথে যুক্ত করেছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এখন পর্যন্ত জনসমাজে মুসলমানদের মধ্যে এত বড় ধরনের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

শক্তিশালী শাসক হিসেবে এমন বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দুঃসাহস করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তারা বৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যা ও আদর্শিক অঙ্গীকারের বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই কাশ্মীরের পর এবার ভারতের অভ্যন্তরেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে তারা।

সূত্র: হিন্দুস্তান উর্দু টাইমস

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ