আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আজ পদত্যাগ করছেন। সরকারপ্রধানের পাশাপাশি দলীয়প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাগ্রহণ না করা পর্যন্ত অন্তবর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকছেন জনসনই। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে- কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে, এই দৌড়ে এককভাবে কেউই এগিয়ে নেই। আলোচনায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একাধিক নেতা। এদের মধ্যে আছে দুইজন মুসলিম নেতা।
নাদিম জাহাবী
যুক্তরাজ্যের নতুন এ চ্যান্সেলরের জন্ম বাগদাদের একটি কুর্দি পরিবারে। সাদ্দাম হুসেইনের শাসনামলে ইরাক ছেড়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যখন পাড়ি জমান। তখন ঠিকমতো ইংরেজিও বলতে পারতেন না। কঠোর পরিশ্রম আর বুদ্ধিমত্তার জোরে আজ তিনি মিলিয়নিয়ার। ২০১০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবেশের আগে পাঁচ বছর পোলিং ফার্ম ইউগভের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। তেল শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে ৫৫ বছর বয়সী এ নেতার।
সাজিদ জাভিদ
ব্রিটিশ সরকারের হাল ধরার মতো আরেকজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক হলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ। সদ্যই যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সরকারের ছয়টি বিভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার, এর মধ্যে ২০১৯ সালে লিডারশিপ কন্টেস্টে চতুর্থও হয়েছিলেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী সুনাকের সঙ্গে সাজিদের বন্ধুত্ব সর্বজনবিদিত। ফলে তাদের একজন প্রধানমন্ত্রী এবং আরেকজন চ্যান্সেলর হওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশ আলোচিত। সুনাক আগে রাজস্ব মন্ত্রণালয়ে সাজিদের সহযোগীও ছিলেন।
এছাড়াও যাদের নাম রয়েছে-
লিজ ট্রাস
দলের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে ৪৬ বছর বয়সী এ নেতার। গত সেপ্টেম্বর থেকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে লিজ ট্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।
ঋষি সুনাক
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৪২ বছর বয়সী এ নেতা একসময় বরিস জনসনের উত্তরসূরী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। করোনা ভাইরাস মহামারির সময় শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মীদের জন্য হাজার কোটি পাউন্ডের প্রণোদনা দেওয়ায় ঘরে ঘরে পৌছে গিয়েছিল সদ্য পদত্যাগকারী ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীর নাম। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্ত্রীর নন-ডোম ট্যাক্স স্ট্যাটাস, নিজে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড নেওয়া এবং যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিতে প্রতিক্রিয়া জানানোয় অতি ধীরগতি বিতর্ক সুনাকের খ্যাতি অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। এরপরও বরিস জনসনের উত্তরসূরী হওয়ার প্রতিযোগিতায় তার নাম আসছে জোরেশোরেই।
বেন ওয়ালেস
কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ নেতাদের কাতারে বেন ওয়ালেসের নাম উঠে এসেছে বেশি দিন হয়নি। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া এবং আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর লোকজন সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাবেক আর্মি ক্যাপ্টেন ওয়ালেস ২০০৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হন, এর আগে অবশ্য স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। ২০১৫ সালে ডেভিড ক্যামেরনের সরকারের জুনিয়র মন্ত্রী থেকে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে পদোন্নতি পান ৫২ বছর বয়সী এ নেতা।
পেনি মর্ডান্ট
বর্তমান মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে কেউ যদি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে তার এক নম্বর দাবিদার পেনি। ৪৯ বছর বয়সী এ নেতা কনজারভেটিভ পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় এমপিদের একজন। বেটিং কোম্পানি ল্যাডব্রোকসের নজরে জনসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখলকারী পেনি। তাছাড়া, চলতি সপ্তাহে কনজারভেটিভহোমের জরিপে সম্ভাব্য দলীয়প্রধান হিসেবে ওয়ালেসের কাছে সামান্য ভোটে হেরেছেন বর্তমানে বাণিজ্যমন্ত্রী।