শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ ।। ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৯ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
‘লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ব্যতীত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’ বর্তমান সমাজে বিয়েকে ক্রমেই কঠিন করে তোলা হচ্ছে কালভার্ট নির্মাণকালে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু আগস্টের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ শুরু করবে সরকার: ববি হাজ্জাজ আগামী ৭ জুন রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ পুলিশ কর্মকর্তা হজ-পরবর্তী জীবনে পরিবর্তন না এলে হজের শিক্ষা অপূর্ণ: শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্নে কোনো আপস করা উচিত নয়’ ৩ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে সাহায্যের আবেদন তালেবানের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত অবস্থা এমনিতেই নাজুক। এরই মধ্যে ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজারো মানুষের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে তারা। তাদের ওপর জারি করার বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ারও আবেদন করেছে তালেবান।

আফগানিস্তানের বিদেশি তহবিল অবমুক্ত করার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্প মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায় আফগানিস্তান প্রশাসন। খবর রয়টার্সের

মানবিক সংস্থাগুলো তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আফগানিস্তানের দু’টি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ, পাকতিকা এবং খোস্তের পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শনিবার জাতিসংঘের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'কিছু অসমর্থিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ছয়টি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে তিনটিতে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ পরিবার এখনো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'অক্ষত এবং আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলিতে বসবাসকারী পরিবারগুলি আরও কম্পন হতে পারে, এই ভয়ে খোলা জায়গায় বসবাস করতে শুরু করেছে।'

তালেবান কর্মকর্তাদের মতে, বুধবারের ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত প্রায় ১,১৫০ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ১,৬০০ মানুষ। এছাড়া প্রায় ৩,০০০ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং শত শত ঘর বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তের কাছে দরিদ্র এবং সবচেয়ে প্রত্যন্ত পার্বত্য আফগান এলাকায় এই ধ্বংসলীলা আঘাত হেনেছে, যেখানে এই মাত্রার বিপর্যয় মোকাবেলার অবকাঠামোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের মতে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২১ জন শিশু ছিল এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আফগান কর্তৃপক্ষ জীবিতদের অনুসন্ধান বন্ধ করে দিয়েছে এবং সক্ষমতার অভাবের কারণে তারা জরুরি প্রয়োজনীয় সাহায্য সরবরাহ করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তালিবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি শনিবার রাজধানী কাবুলে সাংবাদিকদের বলেছেন, 'এই কঠিন সময়ে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দিতে এবং আফগান ব্যাংকগুলোর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে সাহায্যকারী সংস্থাগুলো সহজেই আফগানিস্তানে সহায়তা প্রদান করতে পারে।'

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত ফেব্রুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জমাকৃত আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদের অর্ধেক, যা প্রায় ৭০০ কোটি ডলার অবমুক্ত করা। ওই অর্থ আফগান জনগণের উপকারের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং বাকি অর্থ তালিবানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-সম্পর্কিত মামলাগুলো পরিচালনার জন্য রাখা হবে।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ