শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ ।। ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৯ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
আদ-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাবের নির্দেশ ঢাকাসহ ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা হজের মিকাত আল-জুহফায় মিলল ১৭০০-এর বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ‘বিদ্যুৎখাতে নীতি দুর্বলতার বোঝা জনগণের ওপর চাপানো যাবে না’ স্মৃতির ফ্রেমে আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. ‘লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ব্যতীত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’ বর্তমান সমাজে বিয়েকে ক্রমেই কঠিন করে তোলা হচ্ছে কালভার্ট নির্মাণকালে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু আগস্টের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ শুরু করবে সরকার: ববি হাজ্জাজ আগামী ৭ জুন রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চলমান সঙ্কটে ঐক্যের ইঙ্গিত ভারতীয় মুসলিম নেতাদের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: একের পর এক সঙ্কট লেগেই আছে ভারতীয় মুসলিমদের সাথে। এনআরসি ও বাবরি মসজিদ ইস্যুর পর নতুন করে সঙ্কট শুরু হয়েছে জ্ঞানবাপী মসজিদ, মাথুরা ঈদগাহের শাহি মসজিদ ও দিল্লীর কুতুব মিনারকে কেন্দ্র করে।

এমন-ই এক কঠিন মুহূর্তে নিজেদের মধ্যে বৃহৎ ঐক্যের বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে শুরু করেছেন দেশটির মুসলিম নেতারা। ঠিক তারই দিকে ইঙ্গিত দিলেন দেশটির বর্ষীয়ান আলেম ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (এ) সভাপতি আওলাদে রাসূল সা: মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানি।

তিনি বিভক্ত দুই জমিয়তকে (এ ও এম) একীভূত করার পক্ষে নিজ ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বৃহৎ ঐক্যের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে দুই জমিয়ত এক হতে পারে।

শনিবার সকালে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দে ওসমান নগর ঈদগাহ ময়দানে দেশটির মুসলমানদের সর্ববৃহৎ পুরনো সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের (এম) দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শুরু হয়। ওই সম্মেলনে যোগ দিয়ে মাওলানা আরশাদ মাদানি এ ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ভারতের বর্তমান অবস্থায়, বিশেষত মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত চলছে, দেশের তরে অসীম আত্মত্যাগের ইতিহাসের ধারক এবং মুসলিমদের এক শতবর্ষী মহৎ সংগঠন হিসেবে এই সঙ্কট মোকাবেলায় দুই জমিয়তের উচিৎ একসাথে কাজ করা।’

একীভূত হওয়ার এই উদ্যোগকে একটি গণদাবি উল্লেখ করে মাওলানা মাদানি বলেন, ‘ভারতের পরিস্থিতির কারণেই কেবল এই উদ্যোগ নয়; বরং এই ঐক্য আজ সবার প্রাণের দাবি। আশা করি আগামী কিছুদিনের ভেতরই আল্লাহ তাআলা এই একীভূত হওয়ার এমন পথ ও পন্থা তৈরি করে দেবেন, যা সবার জন্যই প্রশান্তিময় হবে ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার সম্মেলনের দ্বিতীয় সেশনে তিনি বলেন, ‘আমরা দুজনে (অন্যজন মাওলানা মাহমুদ মাদানি) একে অন্যকে সদরে জমিয়ত (জমিয়ত-সভাপতি) আখ্যায়িত করছি। আমি আশাবাদ ব্যক্ত করি যে, হয়তো খুব শিগগির-ই এই অবস্থার পরিবর্তন হবে। আপনাদের মাঝে আমার এই উপস্থিতিই (বিভক্তির) বিষয়টি মিটিয়ে দেয়ার জন্য অনুঘটক হয়ে উঠতে পারে।’

ভারতে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান শেষে আল্লামা মাদানি ‘কিছুদিনের ভেতরই দুই জমিয়তের একীভূত হওয়ার সুসংবাদ পাওয়া যাবে’ বলে পুনরায় আশাব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ পুরোনো প্লাটফর্ম। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে এ সংগঠনটির জন্ম। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দলটির ব্যাপক অবদান রয়েছে।

আল্লামা সাইয়েদ আরশাদ মাদানি ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের প্রাণপুরুষ সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানির ছেলে। বর্তমানে তাকে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী আলেম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে তার অসংখ্য ছাত্র ও ভক্ত রয়েছে। আর মাওলানা মাহমুদ মাদানি সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানির দৌহিত্র ও সাইয়্যিদ আসআদ মাদানীর ছেলে।

সূত্র: ইটিভি ভারত ও অন্যান্য।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ