সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশাহ: সিলেটের জৈন্তাপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। টানা ১০ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে এক মাদরাসাশিক্ষক নিহত হয়েছেন।
নিহত মাদরাসাশিক্ষক হাফিজ সালেহ আহমদ (৪৫) স্থানীয় হেমু গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিলেট নগরের মেজরটিলা তাহফিজুল কোরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এছাড়া সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয়পক্ষের শতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। জানা গেছে, উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং বাজারে জায়গা ক্রয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় হাদপাড়া ও শ্যামপুর গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গতকাল রোববার রাত ১০টায় শুরু হওয়া সংঘর্ষ থেমে থেমে চলে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত। সিলেট থেকে অতিরিক্ত র্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবার সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও হাদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক আহমদ এবং জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল।
এর জেরে রোববার (৩ এপ্রিল) তারাবির নামাজের পর উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে রাত ১০টার দিকে হাউদপাড়া ও শ্যামপুর গ্রামবাসী হরিপুর বাজারে সংঘর্ষে জড়ান।
সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ। এসময় আশপাশের গ্রাম থেকে মুরুব্বি ও পুলিশ এসে সংঘর্ষ থামাতে চেষ্টা করেন। সংঘর্ষে থামাতে দফায় দফায় মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালান।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে সংঘর্ষ থামাতে মাওলানা সালেহ আহমদসহ স্থানীয় মাদরাসার আলেমদের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে যান। অন্যদিকে, পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
এতে সবাই দিকবিদিক ছুটতে থাকেন। একপর্যায়ে সালেহ আহমদ মাটিতে পড়ে যান। তখন হাদপাড়া গ্রামের লোকজন সালেহ আহমদকে ধরে নিয়ে গিয়ে পিঠিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে রাতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। সকাল ৮টায় তিন শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন