এহসান সিরাজ: কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জামিয়ার হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ-এর সাবেক মোহতামিম আল্লামা শামসুদ্দীন কাসেমী রাহ. এর ১৯৮৮ সালের ডায়েরির প্রথম পাতা।
এতে তিনি বিগত বছর অতিবাহিত করতে পারায় মহান আল্লাহর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত অনুযায়ী তাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমল করতে না পারায় নিজেকে শাসন করেন। তাছাড়া নিজের উপর অর্পিত দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে কাজের প্রতি নিজের কমজোরির কথাও প্রকাশ করেন।
মাদরাসার জন্য সীমাহীন ব্যস্ততার দরুন নিজের আম্মাকে দেখার সুযোগ না হওয়ায় নিজের জন্য বিগত বছটিকে ব্যর্থতার বছর হিসেবে উল্লেখ করেন। ব্যক্তিগতভাবে দুই তিন হাজার টাকা ঋণ থাকায় ধার মুক্ত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দ্বীনের কাজ করতে পারার তৌফিক চেয়ে নতুন বছরের জন্য দোয়া করেন।
তিনি লিখেন- আল্লাহর অনুগ্রহে ১৯৭৭ সাল অতিক্রম করে এই বর্ষে পৌছালাম। কিন্তু বৎসরের খতিয়ান তালাশ করলে দেখি জীবনের মূল্যবান একটি বছর অবহেলায় অতিবাহিত করিয়াছি। রাব্বুল আলামিন অশেষ মেহেরবানি করিয়া আসিতেছেন, কিন্তু তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কিছুই করিতে পারি নাই। আল্লাহর নাফরমানি ও পাপের বোঝাই বৃদ্ধি পাইয়াছে।
দ্বীন ইসলামের সমষ্টিগত খেদমতের যে দায়িত্ব আমার মত অযোগ্যের জিম্মায় অর্পিত হইয়াছে, উহা পালন করিতেও গত বৎসর ব্যর্থ হইয়াছি। জামিয়া হুসাইনিয়ার (আরজাবাদ মাদরাসা) দায়িত্ব আমার নিকট আসার পর যেরুপ উন্নতির আশা করা গিয়েছিল, উহাও যথাযথভাবে পালন করিতে সক্ষম হই নাই!
বিগত বৎসর নতুনভাবে জমিয়ত (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম) সংগঠিত করার সময় দেশের উলামায়ে কেরাম আমার দ্বারা জমিয়তের সার্বিক উন্নতির আশা করিয়াছিলেন, উহাতেও আমি ব্যর্থ হইয়াছি।
মাদ্রাসার ব্যাপারে সীমাহীন ব্যস্ততার দরুন আম্মাকে পর্যন্ত দেখার সুযোগ হয় নাই। গত বৎসরকে মোটামুটিভাবে ব্যর্থতার বৎসরই বলা চলে!
ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ২/৩ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত আছি। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার তওফিক দান করেন এবং সমষ্টিগতভাবে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার তৌফিক দান করেন, হাওলাত মুক্ত করেন। আমিন!
-এটি