সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬ ।। ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৭ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
এসএসসিতে ফেল ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, মিললো পরিচয় ‘শাসকদের সঙ্গে আলেমদের সৌজন্য ও আন্তরিকতা বাড়ুক, ক্ষতি কী’ খুলনায় চলছে আস-সুন্নাহর পাঁচ দিনের ইমাম প্রশিক্ষণ কর্মশালা এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফল আজ, জানবেন যেভাবে শুধু সরকার বদল নয়, রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে: আমিরে মজলিস হাটহাজারী মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা ‘বৃক্ষমেলায় বিপুল টাকার লেনদেন প্রমাণ করে তরুণ সমাজ ‘সবুজ অর্থনীতি’ গড়তে প্রস্তুত’  রাষ্ট্রপতি হতে যেসব যোগ্যতা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাদপন্থীদের ইজতেমা বন্ধের দাবি হেফাজতের

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ও আমাদের করণীয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ডা রিফাত আল মাজিদ: স্বাস্থ্যই সম্পদ বা স্বাস্থ্যই সকল সূখের মূল বই পুস্তকে তা বলা থাকলেও স্বাস্থ্য সম্পর্কে পূর্ন ধারনা সবার নেই। যার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বলে যে কিছু থাকতে পারে এটা আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন না।

কেউ কেউ এটাকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা মনে করেন। এমনি অনেক প্রফেশনাল শিক্ষিত সমাজেও এরকম মন মানসিকতা দেখা যায় প্রতিনিয়ত। বর্তমান আমাদের সমাজ ব্যবস্থা,সামাজিক অবস্থান, সামাজিক সস্পর্ক ইত্যাদি বিবেচনায় মানসিক স্বাস্থ্য ও তার গুরুত্ব খুব ভালভাবে উপলব্ধি করা যাচ্ছে।

তৃতীয় বিশ্বের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য কেন উপেক্ষিত সে বিষয়টা আলোচনায় আনা জরুরী। তাছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জড়িত বলে সে বিষয়ে আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ও মানসিক রোগ প্রতিরোধে জাতীয়ভাবে কোন জনস্বাস্থ্য বিষয়ক নীতি গ্রহণ করার ব্যাপারে আগ্রহ আছে কিনা সেটাও উঠে আসে জরুরি।

আরেকটি বিষয় উঠে আসা জরুরী সেটা হচ্ছে মাদক সমস্যা। মাদক সমস্যা প্রতিরোধের প্রধান শর্ত হচ্ছে মাদক চোরাচালান ও পাচার প্রতিরোধ এবং মাদক আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের আধুনকি বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সমাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে সরকারী ও বেসরকারভাবী উদ্যোগ নেয়া।

মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে জনসাধারণের মনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সামাজিক প্রচরণাকে গুরুত্বের সাথে নেয়া। তাছাড়া আমাদের দেশে মানসিক রোগ ও তার ব্যাপকতা বিষয়ে জাতীয় ডাটাবেইজ তৈরী করা এবং মানসিক রোগ বিষয়ে গবেষণা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ মানসিক পেশাজীবি স্বাস্থ্যকর্মী তৈরীতে অধিক গুরুত্ব দেয়া।

এসব বাস্তবায়ন করা গেলে এদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে। ১০ অক্টোবর মানসিক স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। সারা দেশে সরকারী ও বেসরকারি উদ্যগে দিনটি পালন করা হচ্ছে। তবুও সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার ঘাটতি থেকেই গেছে। মানসিক স্বাস্থ্য আজও অবহেলিত।

তাই সবার উচিত নিজের মনের যত্ন নেওয়া,অন্যের মনের যত্ন নেয়া। সমস্যা হলে চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীদের সাথে পরামর্শ নেওয়া। যে কোন মানসিক সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেকাংশেই সুস্থ থাকা সম্ভব। নিজে ও আশেপাশের মানুষদের নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। মাদক ও যে কোন ধরনের আসক্তি থেকে নিজের পরিবারকে সুরক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হোক সবার এটাই হোক বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য।

লেখক: পরিচালক, সেন্টার ফর সাইকোট্রমাটোলজি এন্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ